Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
বিসর্জন অথবা একটি মিথ্যে রূপকথা - ৩ প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
বিসর্জন অথবা একটি মিথ্যে রূপকথা - ৩
পাতা 2
পাতা 3

তিন
এর আগে

অষ্টমীতে রাত জেগে হই হুল্লোড় করেছি এতো বেশি যে, নবমীর দিন সকালবেলায় ঘুম ভাঙলো বে-শ দেরি করে। কাল রাতে কি একটু বাড়াবাড়ি রকমের ড্রিংক করে ফেলেছিলাম? নাহলে মাথাটা এখনো টিপটিপ করছে কেন? কিন্তু আমার কি দোষ বলো? এখন পুজো চলছে না! পুজো মানেই উৎসব, ফুর্তি, মস্তি। এখন সব্বাই এমনটাই করে, এমন করাটাই নিয়ম।

আচ্ছা মা যে আমায় সেদিন অত্তো বড়-বড় সব কথা বললো, সেগুলো সত্যি তো। নাকি সব গ্যাস, গুল আর মিথ্যে! কী জানি, আমার সবসময় কেমন যেন সন্দেহ হয়, আমার মা এই দুনিয়ার হিসেব-নিকেশগুলো পুরোটা বোধহয় বোঝে না, আর যে জায়গাগুলোতেই মায়ের এই বোঝাবুঝিতে ফাঁক রয়ে যায়, সে জায়গাগুলোতে নিঃশব্দে জল মিশিয়ে আমার কাছে সাপ্লাই করে দেয়। কিন্তু আমার মতো পাকা মাথার লোকদের সবসময় এইসমস্ত ইনফর্মেশন ক্রশচেক করে তবেই বিশ্বাস করা উচিৎ। এই কথাটা মনে হতেই সারা শরীর থেকে ঘুমের জড়তা-টড়তাগুলো সব কোথায় উধাও! কোথা থেকে মায়ের ছাড়া সম্ভাব্য গুলগল্পগুলো ক্রশচেক করা যাবে, সে তো বিলক্ষণ জানাই আছে আমার।

নদীর উজানে প্রায় মাইল তিনেক গেলে নদীর মাঝবরাবর জলতলে তুমি দেখতে পাবে আশ্চর্য এক ময়ূরপঙ্খী নৌকো। কত লক্ষ বছর ধরেই না জানি ডুবে রয়েছে বেচারা, সারা গায়ে তার জন্মেছে জলজ গুল্ম, শ্যাওলা, আরো কত কী যে। ভেঙে-চুরেও গেছে কিছুটা। বাইরের দুনিয়ার কেউ জানে না এটার খবর, কিন্তু আমাদের জলের দুনিয়ায় আদর করে এটার নাম আমরা দিয়েছি রংমহল। এই রংমহল-এর কামরায় কামরায়, খাঁজে খোঁজে অবসর বিনোদনের সময় চুটিয়ে সাঁতরে বেড়াই আমরা। আর এই রংমহল-এর একটা ঘরেই রয়েছেন আমার এক অতি প্রিয় বন্ধু, এক অতি বৃদ্ধ অক্টোপাস। বয়সের কোনো গাছ পাথর নেই, আমার তো মনে হয় বয়স নিয়ে প্রতিযোগিতা হলে সবকটা কচ্ছপই ওঁর কাছে গুনে গুনে দশ গোল খাবে। জ্ঞানেরও তিনি কুল-শিরোমণি। দুনিয়ার হেন খবর নেই, যা তাঁর অজানা। কখনো মনে কোনো কিছু নিয়ে প্রশ্ন এলেই তাই সটান হানা দিই তাঁর অন্দরমহলে। রংমহলে। ঝিলমিল বলেছিলো, ‘তোর এই প্রিয় বন্ধুর নাম দে বরং ইন্টারনেট। সবজান্তা কিনা।’ কিন্তু দুর। এতো খটমটে ইংরিজি নাম আমার মোটেই পছন্দ হয় নি। আমি বরং ভালবেসে আমার এই প্রিয় বন্ধুকে জেঠু বলে ডাকি। সিধুজেঠু।

ওঁর সামনে নীরবে গিয়ে হাজির হওয়া মাত্র খুব গম্ভীরভাবে, যেন বা ঈষৎ বিরসবদনেই সিধুজেঠু আমায় বললেন, ‘এই ময়ূরপঙ্খী নাওটা নিয়ে মনের মধ্যে অমন ভুলভাল ধারণা মোটেই পুষে রেখো না বুচানবাবু। এটা কিন্তু মোটেও লক্ষ বছরের পুরনো নয়। এর বয়স কয়েক হাজার মাত্র। ইনফ্যাক্ট এই ময়ূরপঙ্খীতে চড়েই সেসময় জলপথে ভ্রমণ করছিলেন বিখ্যাত চীনা পর্যটক ফা-হিয়েন, দুর্ঘটনাটা ঘটে সেই সময়ই। জলদস্যুরা নাও আক্রমণ করে সব ধনসম্পদ লুঠ করে নেয়, আর ফা-হিয়েন নিজে জলে ঝাঁপ দিয়ে, খুব ভালো সাঁতার জানতেন তো, সাঁতরে তবে পালিয়ে বাঁচেন। এরপর দস্যুরাই নৌকোর তলায় ছ্যাঁদা করে দেয় এটাকে ডুবিয়ে। এই ঘটনাটা অবিশ্যি ঘটেছিলো আরো বে-শ দূরে, তারপরের কয়েক শতাব্দীতে স্রোতের ঠেলায় সরতে সরতে শেষটায় নৌকোটা এখানটায় এসে থিতু হয়েছে। শেষ দুশো বছর এটা অবিশ্যি বিশেষ একটা আর নড়ে-চড়ে নি, রয়ে গেছে এখানেই।’



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন