Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
বিয়েবাড়ি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন আইভি চ্যাটার্জী   
আর্টিকেল সূচি
বিয়েবাড়ি
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4
পাতা 5
পাতা 6
পাতা 7
পাতা 8

ছটা দশে একটা মালগাড়ি যাবার সময়। তার আগেই রেলওয়ে ক্রসিং পেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল সুকল্যাণের। নইলে অন্তত কুড়ি মিনিট দেরি হয়ে যায়। আকাশের অবস্থা ভালো নয়। কখন ঝেঁপে বৃষ্টি আসে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে বেশ, চিন্তা ক্যামেরাটা নিয়ে। অনেকদিনের সঙ্গী ক্যামেরা, খুব যত্নে রাখে সুকল্যাণ। এ নিয়ে মিতুটা কম পেছনে লাগে! ‘ও দাদাভাই, তুই ক্যামেরাটাকে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসিস, না?’ মিতুর ছোটবেলা থেকেই আছে কামিনীমাসি, এ বাড়ির একজন হয়ে গেছে, মাসিও বলে ‘ও বাবা, সে আর বলতে! ও তো আমাদের সুকুর পুত্তুর গো। একবার হাত দাও দেখি।’

প্রথম ক্যামেরা কিনে দিয়েছিলেন সেজমামা। স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলে ক্যামেরা কিনে দেব, বাবা বলেছিলেন। ফার্স্ট ডিভিশনটাই হল না। সুকুকে নিয়ে বাবার কোন স্বপ্ন পূর্ণ হয় নি। ছেলে ডাক্তার হবে, সমাজে প্রতিষ্ঠা হবে...স্কুল ফাইনালের রেজাল্টই বুঝি বাবাকে জানিয়ে দিল, স্বপ্ন দেখাটা ভুল। মামারা বুঝিয়েছিলেন, সব ছেলে কি মেধাবী হয়! আমাদের সুকুর মতো বাধ্য, শান্ত, ভালো ছেলে কটা হয়! সায়েন্সের মাথা নেই, তাতে কি। কমার্স পড়ুক! সেজমামা চিরকালের পৃষ্ঠপোষক, ‘মুখ শুকনো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছেলেটা’, একটা ক্যামেরা কিনে এনেছিলেন। আগফা আইসোল ক্যামেরা। তখন ক্লিক ক্যামেরার চল ছিল। হটশট, ক্লিক এমন সব ক্যামেরা। কিছুই করতে হবে না, অবজেক্টকে দাঁড় করিয়ে একবার শুধু বোতাম টেপা। সুকুর সেটা পছন্দ ছিল না। আগফা আইসোল ক্যামেরাটা পেয়ে বেশ খুশি হয়েছিল সুকু। ভালো ক্যামেরাম্যানদের দেখাদেখি লেন্স অ্যাপার্চার ঠিক করার ইচ্ছে হত সুকুর, আগফা আইসোল ক্যামেরায় ও সব ছিলই না। তবু নানা অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তোলা, নানা কায়দায় ছবি তোলার শখ হত। মিতুটা তখন নেহাৎ শিশু, হাতের কাছে ভালো একটা সাবজেক্ট ছিল ছবির। তবে বড় চঞ্চল, সামনে বসিয়ে ফোকাস ঠিক করতে করতেই সে এদিক ওদিক হামা দিয়ে চলে যেত। মিতুর জন্মের সময় থেকেই মা শয্যাশায়ী, কামিনীমাসি সেই থেকে এ বাড়িতে। কামিনীমাসির কোলে মিতুকে বসিয়ে ছবি তোলা, ফোকাস আর ঠিক হয় না, ‘আমার আর কাজকম্মো নেই গো, সারাবেলা ছবি তোলা নিয়ে থাকলে হবে?’ মিতুকে খেলতে বসিয়ে কাজে চলে যেত কামিনীমাসি। একটুও ধৈর্য নেই!
মা ডাকতেন, ‘আয় সুকু, তুই আমার ছবি তোল।’ মায়ের ধৈর্য সুকুর চেয়ে কম নেই। ভাগ্যিস তাই তো সুকল্যাণের কাছে মায়ের অতগুলো ছবি আছে! নানা মুডে, নানা অভিব্যক্তিতে। সাদা কালো ছবি সব। ভালো ক্যামেরা নয়, ছবি বড় করতে গেলেই ছিঁড়ে যায়। বড় আফসোস হয় এখন। তখন যদি এই ক্যামেরাটা থাকত! প্রোফেশনাল ফোটোগ্রাফার হয়ে সুকল্যাণ জেনেছে, মায়ের মত অমন একখানা মুখ ফোটোগ্রাফারের কতখানি পাওয়া।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন