Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
উত্তরণ - পর্ব ৭ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অনুপম   
আর্টিকেল সূচি
উত্তরণ - পর্ব ৭
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4
পাতা 5
পাতা 6

সাত
এর আগে
অনিরুদ্ধ বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যশোর রোডের ধারে এসে দাঁড়াল।
এখন যদিও নটা বাজে কিন্তু রোদের বেশ তেজ।
ফল সিজন, কিন্তু কোনো গাছই পাতার রঙ পাল্টায়নি।
আমেরিকাতে এখন গাছের পাতার কত বাহারী রঙ। ওখানে অল্প অল্প ঠান্ডা পরে গেছে। আর এখানে বেশ গরম। কেমন যেন একটা বোটকা গন্ধ নাকে এসে লাগছে।

অনিরুদ্ধর গন্ধের বাতিক আছে। ছোটবেলা থেকে ওর গন্ধ নিয়ে প্রবলেম। খাবার যদি একটু এদিক ওদিক হত তা হলে ওর বাজে একটা গন্ধ লাগত। ও সেই খাবার আর খেতে পারতনা। আজ বহুবছর পর আবার একটা বাজে গন্ধ ওর নাকে এসে লাগল। গাটা গুলিয়ে উঠল। পকেট থেকে টিকট্যাক্ বার করে মুখে দিল। গন্ধটা একটু কমল মনে হচ্ছে। একপাশে সরে এসে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়াল। বেশ কয়েকটা বাস ও ছেড়ে দিল। এত ভিড় যে ওঠা যায়না।
কি করবে ও ভেবে পাচ্ছেনা।
সমু বলেছিল বেলগাছিয়া থেকে মেট্রো ধরতে।
কিন্তু বেলগাছিয়া যাবে কি করে? কোনো বাসেইতো উঠতে পারছেনা। একটা ট্যাক্সি পেলে ভালো হত। কিন্তু কোনো ট্যাক্সিই খালি যাচ্ছেনা। এখন অফিস টাইম, কোনো কিছুই খালি পাওয়া যাবেনা। কলকাতা অনেক পাল্টে গেছে। কিন্তু অফিস টাইম পাল্টায়নি। এখনো সেই আগের সময়ই আছে। ও সমুর কাছে শুনেছে লোকেদের আয় অনেক বেড়ে গেছে আগের থেকে। আগে গাড়ি খুব কম বাড়িতেই দেখা যেত। আর এখন পাড়াতে যদি একশ ফ্যামিলি থাকে তা হলে কম করে পঁচিশটা ফ্যামিলির গাড়ি আছে। টেলিফোন এখন আর বিলাসিতা নয়। নিত্য দরকারের জিনিস। কত পাল্টে গেছে এই কলকাতা। কত উন্নত হয়েছে ভারতবর্ষ। আগের একতলা দোতলা বাড়িগুলো আর নেই। সব ভেঙ্গে বিরাট বিরাট এপার্টমেন্ট বিল্ডিং হয়েছে। ওদের গলিতে শুধু ওদের, মাসিদের আর মিত্রজেঠুর বাড়ি এখনো ভাঙ্গা হয়নি, আগের মতই আছে। সময় কত দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। মানুষ এখন ছুটছে। তবু যেন যশোররোড সেই আগের মতই সৌন্দর্যহীন হয়ে শুয়ে আছে। ওর কোনো পরিবর্তন হয়নি। হয়ত মনুষ ওর কথা ভুলে গেছে। ভুলে গেছে ওর অস্তিত্ব। অন্যমনস্ক ভাবে এদিক ওদিক দেখছে অনিরুদ্ধ।
ধরাবাঁধা কোনো চিন্তা মাথায় আসছেনা। এট সেটা মনের মধ্যে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে।
আর কতক্ষণ ওকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে?
গরমের জন্য চোখদুটো জ্বালা জ্বালা করছে।
আমেরিকা থেকে আসার সময় তাড়াহুড়োতে সানগ্লাসটা আনতে ভুলে গেছে। তখন অবশ্য সানগ্লাসের কথা মাথাতে আসেওনি। একটা সানগ্লাস কিনে নেবে আজ। এখানে যা রোদের তেজ, সানগ্লাস না পরলে কষ্ট হবে।

‌আজ তেরবছর পর কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনিরুদ্ধ নিজেকে ঠিক সবার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেনা। অনেকেই পথ চলতি ওর দিকে তাকিয়ে দেখছে। আচ্ছা ওকে কি দেখে লোকগুলো বুঝতে পারছে যে ও এখানকার লোক নয়, আমেরিকা থেকে এসেছে? ওতো নিজেকে ঠিক সেরকম ভাবতে পারছেনা।
রাস্তার উল্টো দিকে একটা সাদা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।
ড্রাইভারের সিটে যে বসে আছে সেই লোকটা অনেকক্ষণ ধরে ওকে দেখছে।
কিন্তু ওটা ট্যাক্সি না। কোনো লাভ নেই ওদিকে তাকিয়ে।
কিন্তু অনরুদ্ধর চোখটা বারবার গাড়িটার দিকেই যাচ্ছে কেন বুঝতে পারছেনা। লোকটা এবার গাড়ি থেকে নামল। মাঝারি হাইটের ভারিক্কি চেহারার ভদ্রলোক। কালো ট্রাউজারের সঙ্গে সাদা সার্ট, গলায় মেরুন রঙের টাই।
     ভদ্রলোক রাস্তা পার হয়ে এদিকেই আসছেন। মুখে হালকা হাসি। কাছে এসে অনিরুদ্ধকে ভালো করে দেখে নিয়ে হাসতে লাগলেন।
     কিন্তু অনিরুদ্ধ ভদ্রলোককে চিনতে পারছেনা।
     ভদ্রলোকের চোখে পাতলা ফ্রেমের চশমা। মাথার চুল বেশ হালকা হয়ে গেছে। সামনে প্রায় চুল নেই বললেই হয়। ভদ্রলোক কিন্তু কিছুনা বলে শুধু হাসছেন।


 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন