Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
বাসা বদল প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন রঞ্জিত চ্যাটার্জী   
আর্টিকেল সূচি
বাসা বদল
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4
পাতা 5
পাতা 6
পাতা 7
পাতা 8
পাতা 9
পাতা 10

সারাটা রাত স্রেফ জেগে জেগে কেটেছে, পলকের জন্যেও দু’চোখের পাতা এক করতে পারেনি মমতা। রাত-প্রহরী কনস্টেবলের বুটের আওয়াজে রাস্তার কুকুরগুলো চিৎকার করে উঠেছে কখন, রোঁয়-ওঠা ময়লা বেড়ালটা এঁটো বাসনের গাদায় খুটখাট করেছে ক’বার, রেললাইনের ধারে হিন্দুস্থানী কুলি-ব্যারাকের মাতাল মহানন্দ আনন্দ করতে করতে ফরেছে কত রাতে, সবই একে একে বলে যেতে পারে সে।

প্রথম রাতে বার দুই উঠে পায়চারি করেছে, ঘাড়ে-মুখে জল ছিটিয়েছে, একখানা বই নিয়েও বসেছে খানিক, কিন্তু ঘুম যেন অগস্ত্য-যাত্রা করেছিল চোখ থেকে, আর ফেরে নি। অতীনকে ডাকতে গিয়েও ডাকে নি, সারাদিনের পরিশ্রমের পর ওকে আর বিরক্ত করতে ইচ্ছে হয় নি মমতার। আনন্দ মানুষের ঘুম কেড়ে নেয়? মনে মনে ভেবেছে মমতা। কোন গুপ্তধন কিংবা লটারীর টিকিট পাওয়া নয়, চাকরিতে স্বামীর প্রমোশান কিংবা বিদেশে ছেলের উন্নতির খবর পাওয়াও নয়, শুধু মনের মতন একখানা ফ্ল্যাট ভাড়া পাওয়া। তাও হয়তো নয়্ আবার ভেবেছে মমতা, তবে কিসের আনন্দ? উত্তর কলকাতার উত্তরতম প্রান্তের এই নরক থেকে মুক্তি পেতে চলেছে বলে? নরক নয় তো কি-= কতকগুলি গেঁয়ো, অশিক্ষিত লোক, যাদের আচার-ব্যবহারে কোন রুচি নেই, যারা দিনরাত শুধু এর-ওর-তার সঙ্গে কোঁদল করে বেড়ায়, কেঁচো-কেন্নোর মত ঘরভারা গুচ্ছের ছেলেমেয়ে নিয়ে যারা শুধু পশুর জীবন যাপন করে, তাদের পাড়াকে নরক ছাড়া আর কি ভাবতে পারে মমতা।

অনেক্ষণ থেকেই একটা মশা ভনভন করছিল মমতার মুখের কাছে। কখনও চোখের পাতায়, কখনও নাকের ডগায়, কখনও বা কানের পাতায় বসছিল আর সুড়সুড়ি দিচ্ছিল। হাত নেড়ে নেড়ে অনেকবার তাড়িয়েছে মমতা, কিন্তু এবার যেন একটু বিরক্ত হয়ে উঠল। ফ্লিট ছড়ালেও মরে না এ পাড়ার মশাগুলো; একটু ফাঁক পেয়েছে কি ঢুকে পড়েছে মশারির মধ্যে। হরিপালের মশা যে অমন বিখ্যাত, তাও বোধ হয় এমন নয়।

ধড়মড় করে উঠে পড়ল মমতা, আলো জ্বালাল, খসে-পড়া আঁচলটা কাঁধের ওপর টেনে দিয়ে মশারির ভেতর ঢুকল আবার। দীপুর মুখে হাত বুলোল একবার। মশার কামড়ে লাল হয়ে উঠেছে কয়েক জায়গায়। ওপাশে অতীন শুয়ে, ঘুমে বেঘোর! হাত চাপড়ে কয়েকটা মশা মারল মমতা। রক্তে টোবা টোবা হয়ে ছিল যেন। বিছানার কোণগুলো ঠিক করে দিল একবার, সরে-যাওয়া লেপটা টেনে দিল অতীনের গলা অবধি, তারপর আলোটা নিবোতে গিয়ে হঠাৎ যেন চমকে উঠল মেঝেয় চোখ পড়তেই। খাটের পায়ার কছে ওটা কি পড়ে? মাথা নিচু করে দেখল মমতা। বরবটির টুকুরো। গেল মঙ্গলবার থেকে, মাঝরাতে একটা বিছে কামড়াবার পর, কেমন একটা ভয় ধরে গেছে তার। মেঝেয় টুকরো কিছু পড়ে থাকলেই চমকে ওঠে। মনে পড়ে বিছেটার কামড়। রাতভর, পরদিনও দুপুর পর্যন্ত প্রায়, ছটফট করে বেরিয়েছে সে। শিরায় শিরায় সে কি টান আর জ্বলুনি!

মান্ধাতার আমলের বাড়ি। যেমন অন্ধকার, তেমনি স্যাঁতসেতে। এক বাঘ-ভাল্লুক ছাড়া বোধ হয় কবরকম জীবেরই আনাগোনা এখানে। এমন জায়গায় মানুষে বাস করে? অন্ধকারেই আস্তে আস্তে দীপুর মাথায়-মুখে হাত বুলোতে থাকে মমতা। ভুগে ভুগে ছেলেটা সারা। একটা মাস পুরো যায় না, সুস্থ থাকে। আম বমি, কাল পায়খানা। সর্দি-জ্বর তো হামেশাই লেগে আছে। আলো নেই, হাওয়া নেই, হাত-আ ছড়িয়ে একটু খেলবে, এমন একটা উঠোন পর্যন্ত না। তাই কি একটু বাইরে বেরোবার জো আছে! যত সব ছোটলোকের বাস এ পাড়ায়। সারা গায়ে গুচ্ছের খোস-চুলকোনি নিয়ে কেলে-কেলে ছেলেমেয়েগুলো এর-ওর-তার সঙ্গে কেবল ঝগড়া বাধায় আর খিস্তি-খেউড় করে মে। বাপ-মায়েরাই বি কি! তারাই বা কোন্ ভদ্রলোক যে ছেলেপুলেগুলো শান্ত-সুধারা হবে!



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন