Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
বাংলা সাহিত্যে নায়িকাদের আভূষণ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন আইভি চ্যাটার্জী   
আর্টিকেল সূচি
বাংলা সাহিত্যে নায়িকাদের আভূষণ
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4

আভূষণ অর্থাৎ অলঙ্কার। অলঙ্কারশাস্ত্রের কথা বললেই সংস্কৃত সাহিত্যের কথা মনে আসে। ভারতের নাট্যশাস্ত্র, যেটি সম্ভবত তৃতীয় খ্রীষ্টাব্দের রচনা -- তাতে নয়টি রসের কথা আসে প্রথম। বিশেষত শৃঙ্গাররস এই নাট্য শাস্ত্রের মূল কথা। মোটামুটি সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত রচনায় নারীর তিন রূপ : গৌরী, বৈদভী আর পাঞ্চালির কথা এসেছে কবিতায়, বারবার। শৃঙ্গাররস এবং রূপ- নারীর এই দুই শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার হিসেবে কাব্যে এবং শ্লোকে প্রকাশ পেয়েছে। নারীর সৌন্দর্য বর্ণনায় তার বাহ্যিক রূপ এবং পোষাক - অলঙ্কারের বর্ণনা পাই আমরা - এই সময়ের সব লেখায়। সংস্কৃত সাহিত্যের নারীরা .. শকুন্তলা-পার্বতী-লক্ষ্মী কিংবা উর্ব্বশী-মেনকা-রম্ভা সবাই ফুলের গয়না পরতেন।

দশম শতাব্দীর চর্যাপদ এবং চর্তুদশ শতাব্দীর শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে বাংলা কবিতার ইতিহাসে প্রথম কবিতা বলে ধরা হয়। এর পর বাংলার মঙ্গলকাব্য এবং বৈষ্ণবগীতির পদগুলি বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম কবিতা বলে দাবি করতে পারে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে চারণকবি মুকুন্দদাস এবং রাজকবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের হাত ধরে বাংলা কবিতার দিকবদল শুরু। তারপর ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সুরেশচন্দ্র সমাজপতি, দীনেশ চন্দ্র সেন --- এমন সব মানুষের কলমে বাংলা কবিতার এবং সাহিত্যের বিবর্তন শুরু।

এই সময় থেকেই আস্তে আস্তে বাংলা কবিতায় নারীর অলঙ্কার বর্ণনার চেয়েও কবিতার ধ্বনি ও শব্দ অলঙ্কারের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। জীবনানন্দের ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নেশা’ হঠাৎ করে নারীর সৌন্দর্যবর্ণনার বিষয়টি এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায়,--- সেই কল্পনার নারীটি কি অলঙ্কার পরেছিল, কাঁচুলি পরেছিল নাকি শাড়ি, -- তা নেহাৎই নগণ্য হয়ে আসে।

জয়দেবের গীতগোবিন্দ কিংবা পরবর্তী কালের বৈষ্ণব পদাবলীতে বাঙালি হিন্দু রমণীর ঘরসংসারের ছবি ফুটে উঠেছে বারবার।

‘বুক ভরা মধু বঙ্গের বধু জল লয়ে যায় ঘরে,
মা বলিতে প্রাণ করে আনচান চোখে আসে জল ভরে’

‘রূপসী বাংলা’র’ এই বঙ্গ রমণীর চিরন্তন রূপটি সেই সময়ের বাংলা সাহিত্যের নারীর প্রচলিত রূপ।

মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় নারী শ্রমিক, বা খেতমজুর, কিংবা জেলেরমণী : তাঁরা জীবনসংগ্রামে ব্যস্ত বলেই বোধহয় বাহ্যিক অলঙ্করণে বিশেষ মনোযোগ নেই, অন্তরের বলিষ্ঠ সৌন্দর্য তাঁদের শ্রেষ্ঠ আভূষণ। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় গ্রাম্যজীবনের সহজতা : সেই সাপের খেলা দেখানো মেয়েটি কিংবা মাটির বাসন তৈরী করে সংসার চালায় যে মেয়েটি, কৃষকরমনী : তাঁদের আভূষণ নিয়ে তেমন উৎকন্টা দেখতে পাই না আমরা। অনেক পরে.. প্রায় একই ধারায় মহাশ্বেতা দেবী যখন সমাজের তথাকথিত নিম্নবর্গের এই নারীর কান্না-যন্ত্রণা-শোষণের ছবি আঁকেন লেখায়, একান্ত ব্যক্তিগত সেই সব লড়াইয়ে জয়ী হয় যে মেয়েরা, তাদের আভূষণ নিয়েও লেখক বা পাঠক মাথা ঘামান না।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন