Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
ঘটকেরা হারিয়ে গেল প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অসীমকুমার   

ঘটকদের কথা মনে হলেই একটা সুন্দর ছবি মনে জেগে ওঠে। মুখে মিষ্টি হাসি, মাথায় ছাতা, হাতে এক গাদা কাগজের ফাইল। অনেক সময় বিনা আমন্ত্রনেও তারা আপনার কাছে এসে যাবে যদি আপনার কোন বিবাহ যোগ্য কন্যা বা পুত্র থাকে।

বর্তমান যুগে ডেটিং সার্ভিস থাকলেও পুরাকালে তো ছিলো না। তখন ভালো পাত্র বা পাত্রী পেতে হলে সেই ঘটকই সম্বল ছিলো। তাদের প্রধান কাজ ছিলো মনের মত সব পাত্র-পাত্রী খুঁজে দেওয়া। তাদের বিবাহের কাজে সাহায্য করা। আজ ইন্টারনেটের কল্যাণে সব কিছু বদলে গেলেও সেদিন কিন্তু এমন ছিলো না। মেয়ের বিবাহে ঘটকের ব্যাবহার খুবই দেখা যেত। উভয় বঙ্গেই এই সব ঘটকের খুব দেখা পাওয়া যেত। আজ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন ছেলে মেয়েরা বিয়ের আগে মেলা মেশা করে নিজেদের বুঝে নেন। কত মেট্রিমনিয়াল সার্ভিস গড়ে উঠেছে। সেই নেটেই অনেক কাজ হয়ে যায়। কিন্তু এমন এক সময় ছিলো যখন এই ঘটক কেই একাই দুরে দুরে যেতে হত ভালো পাত্র পাত্রীর সন্ধানে। এটাই ছিলো তাদের জীবিকা। তারা পাত্র পাত্রীর ও তাদের পরিবারের সব খবর সংগ্রহ করে রাখতেন। তাকে কুলাচার বলা হয়। তাদের সেই খাতায় তারা পাত্র পাত্রী ও তাদের পরিবারের নাম, গোত্র, বংশ, বয়স, জীবিকা, ধর্ম সব কিছু লিখে রাখতেন। সম্ভব হলে তাদের ছবি, উচ্চতা, বর্ণ, চরিত্র সব কিছুর সন্ধান নিয়ে আসতেন। এমন কি দেনা পাওনার কথাও তার আগে থেকে বলে দিতেন যে কার কি চাহিদা।

বিবাহের শেষে এই সব ঘটকদের খুশী করা হত ভালোমত অর্থ দিয়ে। তাই সেই সময় ঘটক বিদায় আমাদের এই হিন্দু বিবাহের সাথে জড়িয়ে পরেছিল। দুই পক্ষই তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে খুশী করতেন। বিবাহ অনুষ্ঠানে এই ঘটকের ব্যাবহার বাঙ্গালীদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত। নিজ জাতের মধ্যে বিবাহ সেই সময় খুব প্রাধান্য পেত। ব্রাহ্মণ তাই ব্রাহ্মণকেই বিবাহ করতেন। এই সব ঘটকদের কাছে বিবাহ যোগ্য বহু পাত্র পাত্রীর সন্ধান ও তার পুর্ণ বিবরণ থাকতো। তারা বহু পরিশ্রম করে মনের মতো পাত্র বা পাত্রী জোগার করে দিতেন। সেই সময় যে সব ঘটকেরা তাদের সৎ কাজের মাধ্যমে ও সেবা করে সবার নজর কেড়ে ছিলেন তাদের মধ্যে এদু মিশ্র, ধ্রুবানন্দ মিশ্র, দেবীবর ঘটক ও নুলো পঞ্চানন-এর নাম উল্লেখ যোগ্য।

যদিও সময়ের সাথে সাথে এই সব ঘটকদের আজ আর বেশি দেখা যায় না। এরা সব দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তি কালে নতুন প্রজন্ম তাদের কথা বইতে পড়বেন বা কোন বাংলা মুভি দেখে বুঝে নেবেন।

আজ এই যান্ত্রিক যুগে বাড়িতে বসেই ম্যাচ মেকিং করা হয়। চ্যাট লাইনও আছে। ছেলে মেয়েরা আজকাল আর খুব বেশি না দেখে শুনে বিবাহ করতে চান না। ঠিকুজি বা কুষ্ঠির সাথে নিজের মনটাও মিলিয়ে নিতে চান। একটা কথা আছে না ম্যারেজ মেড ইন হেভেন। তারই পুর্বস্তর মাত্র। যন্ত্রের সাথে পাল্লা দেবার মত ক্ষমতা কারো কি আছে? ঘটকেরা আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছেন। বর্তমান সমাজের যান্ত্রিক সভ্যতার অন্তরালে তাদের সেই মিষ্টি হাসি আর দেখা যাবে না। বর কনে কি কেউ আর আশীর্বাদও করবেন না। তবে তাদের কাজ আজ অত বেশী না থাকলেও তাদের কথা কিন্তু সেই ম্যাচ মেকিং সার্ভিসের মধ্যে দিয়েই বেঁচে থাকবে।

বর্তমানে কিছু দক্ষিনা দিয়ে ম্যাচ মেকিং সেন্টারের সদস্য হয়ে যান। তার পর কিছু সময় নিয়ে তাদের প্রশ্নাবলি আপনার মনের মত করে পুরণ করুন। ব্যাস মুহুর্তের মধ্যেই তাদের ডেটা-বেসে জমা থাকা আপনার পছন্দের সব নাম ভেসে উঠবে। এর পর চ্যাটিং, ডেটিং বা মিটিং যা লাগে শুরু করে দিন। ঐ যন্ত্র-গণক বিবাহে ইচ্ছুক বাক্যভ্রতদের ঠেক তাদের মনের মত যায়গাতে পৌঁছে দেবেন। কেউ কেউ বলেন নামে কি এসে যায়? আজ কাল যত সব ডেটিং সার্ভিস বা বিবাহ প্রতিষ্ঠান কাগজে বা নেটে দেখা যায় সেও তো সেই ঘটকালি। নতুন বোতোলে পুরানো মদ। কিন্তু মাঝে কোন নির্ভর যোগ্য মিডিল ম্যান বলে কেউ রইলো কি? তাই আজো মনে হয়:-

ঘটকের যুগ শেষ করে দিলো সার্ভিস ম্যাচ মেকিং
এরই সাথে পিছিয়ে নেই কো মিষ্টি মধুর ডেটিং।
ঘটকের আজ ইতিহাসে বাস হারিয়ে গেলো যে সরে
ঘটক বিদায় আর নয় জেনো নতুন নিয়েছে কেড়ে।

Comments (0) >>
Write comment

This content has been locked. You can no longer post any comment.


busy

অসীমকুমার
About the author:
 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন