Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
উত্তরণ - পর্ব ৬ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অনুপম   
আর্টিকেল সূচি
উত্তরণ - পর্ব ৬
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4
পাতা 5
পাতা 6
পাতা 7
পাতা 8

ছয়
এর আগে

স্নিগ্ধা একদম একা।
সকালের খাওয়ার খেয়ে অনিরুদ্ধ একটু আগে বাইরে ঘুরতে গেছে। দোতলার বসারঘরে স্নিগ্ধা টিভিটা চালিয়ে দিয়ে সোফার এককোণে চুপ করে বসে আছে। যদিও টিভির দিকে ওর চোখ, তবু কিছুই ও দেখছেনা। অন্যমনস্ক ভাবে একটার পর একটা চ্যানেল ঘুরিয়ে যাচ্ছে। বাইরে হালকা মেঘে আকাশটা ঢাকা। কেমন যেন গুমট হয়ে আছে। বৃষ্টি হতে পারে। ঘরে আলো কমে এসেছে। তবে লাইট জ্বালাবার মত অন্ধকার নয়। স্নিগ্ধা কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা। কোনো কাজ নেই। মাসি ওনার বাড়িতে চলে গেছেন। হয়ত সন্ধ্যেবেলা আসবেন।
     টিভিটা বন্ধ করে দিয়ে স্নিগ্ধা সোফায় চিত হয়ে শুয়ে পড়ল।      ওকি তাহলে আমেরিকা যাবে?      ছোটবেলায় খুব ইচ্ছা করত আমেরিকা যাবার। কিন্তু এখন সেই ইচ্ছাটা আর নেই। অনেক ঘটনায় ওর ইচ্ছাগুলো সব মরে গেছে। তবু মনের অনেক নিচে কোথাও একটু ভালো লাগা যেন বেঁচে আছে। কি করবে ও আমেরিকা গিয়ে? যদিও স্নিগ্ধা এম.এ পাশ, কিন্তু সেটা বাংলায়। বাংলাতো কোনো কাজে লাগবেনা ওখানে। ভালো ইংরেজিও বলতে পারেনা। পারবে কি স্নিগ্ধা ওখানে মানিয়ে নিতে? পারবে কি ওর মত একটা সাধারণ মেয়ে ওখানকার জনস্রোতে মিশে যেতে? কেমন যেন ভয় ভয় করছে। কিছুই নেই ওর, তবু এই বাড়ি ছেড়ে যেতে কেমন যেন একটা ভয় । এখানে মাসি আছেন, সমু আছে আর আছে মার স্মৃতি। কিছু হলে মাসি আর সমু বুক দিয়ে ওকে আগলে রাখবে। কিন্তু ওখানে? ওখানে কে ওকে আগলাবে? দাদা কি ওকে আগলাবেন?
     কেমন মানুষ এই দাদা?
স্নিগ্ধা দাদার সম্বন্ধে কিছুই প্রায় জানেনা। শুধু জানে দাদা ওদেশে খুব বড় কাজ করেন।
     আচ্ছা দাদা বিয়ে করেননি কেন? কেন দাদা আজো একা একা থাকেন? দাদর কি কোনো দুঃখ আছে? একবার শুধু মা বলেছিলেন, ‘মনুটা পুরনো কথা ভুলে গিয়ে এবারে একটা বিয়ে করলে পারে।’ কি পুরনো কথা?
দাদাকে কি ভুলে যেতে বলছেন মা ? স্নিগ্ধা লজ্জার জন্য মাকে কোনোদিন কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারেনি। ওর কেমন যেন মনে হচ্ছে, দাদা কোনো মেয়ের কাছ থেকে দুঃখ পেয়েছেন। আচ্চা, ওদেশের কোনো মেয়েকি দাদাকে বিয়ে করতে চায়না? কি সুন্দর চেহারা দাদার। কোনো মেয়ের কি দাদাকে পেতে ইচ্ছা করেনা?

অভিজিৎয়ের সাথে দাদার মিল খুব কম। দাদা খুব লম্বা। অভিজিৎএর হাইট ছিল মাঝারি। দাদা উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, আর অভিজিৎ ছিল বেশ ফর্সা। অভিজিৎ ছিল ছটফটে উদ্দাম। আর দাদা শান্ত, কেমন যেন অন্তর্মূখী। দুইভাইয়ের এত অমিল হল কি করে? দাদার মধ্যে কেমন যেন উদ্দমের অভাব। অভিজিৎ দাদার চেয়ে সাত বছরের ছোট।

অভিজিৎয়ের উদ্দাম প্রেম স্নিগ্ধাকে সব কিছু ছেড়ে আসার জন্য পাগল করে দিয়েছিল। অভিজিৎয়ের যখন তখন স্নিগ্ধাকে জড়িয়ে ধরা আর গভীর চুমুর মধ্যে ছিল একধরনের মাদকতা। সেই মদের নেশাতেইতো স্নিগ্ধা পেরেছিল ঘর ছাড়তে।

চার বোনের সবচেয়ে ছোট ও। বাবার সবচেয়ে আদরের মেয়ে। কিন্তু সেই বাবাকেও ছেড়ে আসতে ওর কোনো কষ্ট হয়নি। অভিজিৎ ওর মধ্যে নতুন ভাবে বাঁচবার স্বপ্ন জাগিয়েছিল। অভিজিৎয়ের ভালোবাসা ওকে পাগল করে দিয়েছিল। তবে আজ কেমন যেন মনে হয়, মধ্যবিত্ত বাঙ্গালি মেয়েদের কোনো স্বপ্ন দেখতে নেই। স্বপ্ন দেখা ঠিক না।

স্বপ্ন দেখলে ওর মত নিঃস হতে হবে। আচ্ছা অভিজিৎয়ের কি এখনো ওকে মনে পরে? সেই অন্যজগত থেকে কি অভিজিৎ ওকে দেখতে পায়?

আজ অনেকদিন পর আবার নতুন করে অভিজিৎয়ের জন্য স্নিগ্ধার মন কেমন করতে লাগল। অভিজিৎয়ের বুকের মধ্যে মুখ গুজে শুতে ইচ্ছা করছে। আজ কতদিন হয়ে গেল স্নিগ্ধা কোনো পুরুষের স্পর্শ পায়নি। কিন্তু অন্য কোনো পুরুষের স্পর্শতো ও পেতে চায়না। ও পেতে চায় অভিজিৎয়ের ঊষ্ণ স্পর্শ। ওর এই দেহ-মন অভিজিৎকেই ও দিয়েছে। সেই দেহ-মন অন্য কোনো পুরুষমানুষ স্পর্শ করবে এটা ভাবলেই ওর কেমন যেন ঘেন্না করে। ওর কোনো যুবককে দেখলেই প্রেম আসেনা। তবু কখনো কোনো অসতর্ক মূহুর্তে মন কাউকে পেতে চায়, কারো স্পর্শের জন্য উতলা হয়।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন