Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ৫ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন সত্যব্রত মজুমদার   
আর্টিকেল সূচি
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ৫
পাতা 2

এর আগে

সূচনা ও পরিণতির পরিসরে

১৯৩০ উত্তর বিপ্লব আবর্তে অবিভক্ত বাংলা উচ্ছল। চট্টলার ‘মাষ্টারদার’ জেলাভিত্তিক বিধ্বংসী আঘাত সামলাতে না সামলাতেই পূর্বেই ব্রিটিশ বি.ভির প্রচন্ড আঘাতের সম্মুখীন। বাহ্যত বি.ভির আঘাত ব্যক্তিকে নিশানা করে হলেও বাস্তবে এ আঘাত ছিল বৃটিশের শক্তিপরিচালন উৎস মুখে। ঢাকায় লোম্যন-হাডসন, রাইটার্স বিল্ডিংস এবং মেদিনীপুরে ইংরেজের মানসম্মান ও প্রতিষ্ঠাকে ধূলিসাৎ করতে উদ্যত । তখন ১৯৩৩ সালে বি-ভির কর্মযজ্ঞের দুই প্রধান নায়ক যতীশ গুহ এবং কামাখ্যা রায় বহরমপুর জেলে বন্দী। ১৯৩৩ এর ৩রা সেপ্টেম্বর বি-ভি কর্মীরা মেদিনীপুরের বৃটিশ শক্তির প্রতিভূ প্রধান জেলাশাসক মিঃ বার্জকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেন। কামাখ্যা রায় বিশ্বাস করতেন যে একটা বিশাল তথাকথিত মজবুত অট্টালিকার মুখ্য ভারবহনকারী স্তম্ভগুলিকে(Pillar) ধ্বংস করলে যেমন অট্টালিকাটিকেই ধূলিসাৎ করা সম্ভব তেমনি ইংরেজ রাজশক্তির মুখ্য শক্তিস্তম্ভগুলি বিনষ্ট করে দিলে ইংরেজকে এদেশ থেকে উচ্ছেদ করা যাবে। তিনি আরো বিশ্বাস করেন যে বিপ্লবের বন্যা যে কখন কি ভাবে, কিসের লক্ষ্যে দেশকে প্লাবিত করে তার নিশানা স্থর তরাও সম্ভব নয়। (বর্তমান যুগে এ সত্যও প্রতিষ্ঠিত হলো যে ভাষা আন্দোলনও বিপ্লব আবাহসে সক্ষম। স্বাধীন পূর্ব-পাকিস্তান ভাসা আন্দোলন সেখানে নিয়ে এল বিপ্লব বন্যা, আর তার তোড়ে চূড়মার হয়ে গেল পাকিস্থানী বেড়ি; জন্ম হলো স্বাধীন বাংলাদেশের।) বিপ্লবী তথা বিদ্রোহীরা যদি যথাসময়ে যথাযথভাবে বৃটিশ শক্তির উপর আঘাতের পর আঘাত হেনে বৃটিশ রাজের মূখ্য স্তম্ভ কয়টি ভেঙ্গ খান খান করে দিতে পারে তা হলে সে আঘাতও নিশ্চই সার্বিক বিপ্লব আহ্বানে সক্ষম হবে। কামাখ্যাবাবুর এ বিশ্বাসকে কঠিন সত্য বলে মেনে নিয়েছিল বৃটিশ রাজশক্তি এবং তারা বাংলার বিপ্লবিদের আন্দোলনকে যে কোন পন্থায় নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর হয়েছিল। বৃটিশ সরকার এও জানত যে বাংলার মনীষী ও বুদ্ধিজীবীরাও বাংলার বিপ্লবীদের মনের রসদ তাঁদের লেখনি ও শিল্প সৃষ্টির মাধ্যমে যুগিয়ে যাচ্ছেন। ইংরেজ এই জাতীয়তাবাদী-বিপ্লব-আন্দোলনকে প্রতিরোধ করার জন্য বিকল্প কোন পথ সন্ধানের প্রয়োজন উপলব্ধি করে। বৃটিশের স্বদেশের তথাকথিত সরকার বিরোধি বৃটিশ কম্যুনিষ্ট পার্টির ভারতীয় counterpart সি পি আই লেগে গেল বৃটিশের সহযোগিতায় জাতীয় বিপ্লব আদর্শের বিকল্প চিন্তাধারার পথে এগোতে। অপরদিকে বৃটিশ স্বীয় শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে চূরান্ত সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করল দেশবাসীকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে বিপ্লবীদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। দেশ-প্রেমিক অথচ সন্ত্রস্ত জনগণকে বিকল্প কম্যুনিষ্ট প্রবর্তিত পথের প্রতি অনুরক্ত করার প্রচেষ্টা ও চলল সঙ্গে সঙ্গে। কিন্তু ইংরেজের এ কঠোরতার মধ্যেও নেমে এল মেদিনীপুরের জেলাশাসক মিঃ বার্জের উপর মৃত্যুঘাতি আঘাত। ফলে ইংকেজ শাসক-গোষ্ঠীর মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হলো আর ভূলন্ঠিত হলো তাদের তথাকথিত সম্মান এ আঘাতকে (Action) ইংকেজ বিশেষ চ্যালেঞ্জ রূপে গ্রহণ করে মেদিনীপুরের বুকে অবর্ণনীয় অত্যাচার চালাল। মিঃ বার্জকে চরমদন্ড দিয়ে দন্ডদাতা অনাথ পাঁজা ও
[১) অহিংস গান্ধী আন্দোলন যা অহিংসাকে ‘creed’ রূপে গ্রহণ করেছে- তা জাতীয়তাবাদী-বিপ্লব-আন্দোলনের বিকল্প হতে পারে এ বিশ্বাস ইংরেজ সম্পূর্ণ হারিয়েছে।]

নৃপেন দত্ত ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু বরণ করেন। পুলিশ গুপ্ত সংগঠনের গোপন তথ্য সংগ্রহের ব্যর্থ-প্রচেষ্টায় সন্তোষ বেরাকে পিটিয়ে হত্যা করে। দেশবাসী ও বিপ্লবীগোষ্ঠীকে সন্ত্রস্ত করার প্রয়াসে তাঁর মরদেহ মেদিনীপুর শহরের রাস্তায় নিক্ষেপ করে। বিচার প্রহসনের পর ফাঁসীর মঞ্চে জীবন দান করতে হয় ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়, নির্মল জীবন ঘোষকে। গোপালনগর থানায় অন্তরীণাবদ্ধ নবজীবন ঘোষ পুলিশের অত্যাচারের বলি হন। বিনাবিচারে বন্দী করা হয় অসংখ্য যুবক ও তরুণকে। মেদিনীপুর শহর থেকে বিতাড়িত হন শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। ভিটে-মাটি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সমস্ত কিছু পরিত্যাগ করে তাঁদের মেদিনীপুর জেলা থেকে উদ্বাস্তু হয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়।

স্যার জন এন্ডারসন তখন বাংলার গভর্নর অর্থাৎ ইংরেজের মূখ্য প্রতিভু ও প্রশাসক। ‘ব্ল্যাক এন্ড ট্যান’ নীতি প্রবর্তন করে আয়ারল্যান্ডের বিপ্লবীদের দমন করে কুখ্যাত এন্ডারসন সাহেব তখন ইংরেজ প্রশাসনে দক্ষতম এবং বিশ্বস্ততম ব্যক্তি। তার বুদ্ধি ও কর্মদক্ষতার ইংরেজের অপরিসীম বিশ্বাস ছিল; ইংরেজ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করত এন্ডারসন যে নিরাপত্তা ব্যূহ রচনা করবে তা বৃটিশ প্রশাসনকে সর্ব বিপদ থেকে মুক্ত রাখবে। এন্ডারসন এও বিশ্বাস করতেন যে তাঁর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অভেদ্য। আয়ারল্যান্ডের বিপ্লবীরাও এন্ডারসনের নিরাপত্তা ব্যূহ ভেদ করতে সমর্থ হন নাই। এন্ডারসন বাংলার শাসনভার হাতে নিয়েই বাংলার বুকে তার এই বিশেষ দমননীতি প্রয়োগ করলেন।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন