Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
ঝড় প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন প্রসেনজিৎ দত্ত   
আর্টিকেল সূচি
ঝড়
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4

অনেক যুগ আগেকার কথা। ভারত স্বাধীন হয়েছে ঠিকই, তবে দেশের অন্যান্য বড় শহরের মতো কলকাতাতে তখনও রয়েছে বেশ কিছু বৃটিশের বসবাস। এদের মধ্যে বেশীরভাগই ছিল ব্যবসায়ী কারণে, তবে কিছুজন থেকে গিয়েছিল ক‘লকাতা শহরকে ভালোবেসে। কেউ কেউ অবশ্য ছিল এই কারণে যে তাদের নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার মতো আর কোন পিছুটান ঠিল না। এরা প্রায় সকলেই ছিল বিত্তবান। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটয়ে ছিল এদের বসবাস। কেউ থাকত আলীপুরে, কেউ বালীগঞ্জে, কেউ হেসটিংসে, আবার কেউ ওয়েলেসলীতে। এরকমই একজন ইংরেজ ব্যবসায়ী ছিলে চার্লস ওয়াটস। নিজস্ব এবং ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ উদ্যোগে বেশ কিছু কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ঠিল তাঁর কলকাতা শহরে। এই সব প্রতিষ্ঠানগুলিতে এক সময় প্রায় তিন হাজার কর্মী কাজ করতেন। লম্বা দোহারা চেহারা সাহেবের, লাল মুখ, সেই মুখে সবসময়ই পাইপ ঝুলছে। সাদা ধবধবে জামা, সাসপেন্ডার দিয়ে পড়া প্যান্ট, পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হত, একটা মানুষ গেল বটে। রোজ সকালে ব্যায়াম করতেন আর রবিবার হলেই ময়দানে চলে যেতেন ঘোড়ায় চেপে ঘোড়দৌড় করার জন্য।

কলকাতা শহর তখনও ছিল সুন্দর, ছিমছাম। বৃটিশরা লন্ডনের আদলে গড়েছিল একে, দ্বিতীয় লন্ডন হিসাবে এই শহরের নামও ছিল বেশ। বহু স্বনামধন্য মনীষী ও বুদ্ধিজীবীরা এই শহরকে নিজের বাসস্থান বলে মেনে নিয়েছিলেন। বিশ্বের অনেক নামকরা সংস্থার কার্য্যালয়ও ছিল এখানে। দিল্লী রাজধানী হলেও বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও ফ্যাশনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতা। স্বাধীনতার আগে এই শহরের ইংরেজ অধ্যূষিত এলাকাগুলোতে সাধারণ নাগরিকদের চলাফেরার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রশাসনের। রোজ সকালে এর প্রধান প্রধান সড়কগুলি ধোয়া হ’ত জল দিয়ে। অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান কর্মাধক্ষ্যদের নেতৃত্বে সারারাতব্যাপী কাজ চলতো সড়ক নির্মান ও মেরামতের জন্য, যাতে সকালে গাড়ী চলাচলের সাবলীল গতিতে বাধা না পড়ে। শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা দেখে তাক লেগে যেত।

পরাশর রক্ষিত থাকতেন হাওড়া শহরে তার নিজস্ব পৈতৃক বাসস্থানে। বহু প্রজন্ম ধরে ওঁদের পরিবারবর্গের ওই এলাকাতেই বসবাস। নানা কারণে ইচ্ছে থাকলেও বিয়ে করে ওঠা হয়নি পরাশরের। পেশায় ছিলেন অ্যাকাউনটেন্ট, একটা স্থানীয় সংস্থায় কাজ করতেন, কিন্তু অসম্ভব দক্ষ ছিলেন কাজে। থাকতেন হাওড়ায়, কিন্তু মন পড়ে থাকত কললোলিনী তিলোত্তমা কলকাতার দিকে। সুযোগ পেলেই হাওড়া ব্রীজ পার করে চলে যেতেন কলকাতা শহরে। মুগ্ধ নয়নে উপভোগ করতেন শহরের চাকচিক্য আর অবাক হয়ে দেখতেন বিশাল বিশাল ইমারতগুলোকে। মনে মনে ভাবতেন, এই শহরে কাজ করার যদি কোনদিন সুযোগ পান, তবে জীবনটা যেন ধন্য হয়ে যায়। সুযোগ আসতে বেশি সময় লাগল না। গত দুবছর ধরে শহরের বিভিন্ন সংস্থায় আবেদন জানিয়েছেন, ইন্টারভিউ তো দূরের কথা, কোনদিন আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকার করে এটা চিঠিও আসে নি। তাই হঠাৎ মেলবক্সে টাইপ করা সাদা খামটা দেখে আনন্দে, উত্তেজনায় ও একটা অজানা আশঙ্কায় যেন দিশাহারা হয়ে পড়লেন। চিঠিটা বার করে নিজের মনেই গান গেয়ে উঠলেন। ভাই সহদেব ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো, “কী হয়েছে দাদা?”। ওদিক থেকে ওঁর বোন, কাকা ও মাও বেড়িয়ে এলেন। সবার মুখে এক কথা, “কী, কোনো সুখবর আছে?” এক গাল হেসে পরাশর বললেন, “ইন্টাভিউ-এর ডাক পেয়েছি কলকাতা থেকে”!!!



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন