সকালের ০৬৫০-এর ইস্পাত ধরতে হবে হাওড়া নতুন কম্পেক্স থেকে, তারপর, খরগপুর টাটানগর, চক্রধরপুর সোনুয়া, পোসয়টা আর এক চিলতে কারো নদীর সাঁকো পেরিয়ে যেই না কোয়েল কে দেখতে ডানদিকে তাকানো, ওমনি টুপ করে এসে হাজির মনোহরপুর। তারপর গাঙ্গুলী দা (শ্রী অভিজিত গাঙ্গুলী, ০৬৫৯৩ ২৩২৫৩৫) খপ্পরে পরে যাওয়া। সন্তুর, একটা আন্তরিক অরণ্য আবাস। ট্রেন থেকে নামা আর দিন চারেক পরে আবার ট্রেন ধোরেই দেওয়া পর্যন্ত এ এক প্রকৃতি আর মানুষের ছন্দে বাঁধা সন্তুর। বন-ভ্রমণ, সাথে মন ভ্রমণ। মন টা ভ্রমণ এর সাথে পাল্লা দিতে না পারলে ঠিক জমে না। কি কি দেখার আছে ভেবে ট্রেনে না চরাই ভালো। দিঘা/পুরির সমুদ্র নেই, নেই কাঞ্চনজঙ্ঘা, রোটাং পাস, নেই রয়াল বেঙ্গল ইত্যাদি। আছে নিজেকে খুঁজে পাবার স্পেশ, স্লথ জীবন যাপনের রেশ, গাছের সাথে কথা বলার আবেশ। নেই এ সি, আছে ইদারার কনকনে ঠান্ডা জল, দড়ি ধরে বালতি করে গায়ে ঢালার উষ্ঞতা, আছে অজস্র গাছ, ফুল, পাতা, অনন্ত তারা ভরা আকাশ, মোটামুটি সাচ্ছন্দে থাকার বাকি উপকরণ, দু এক দিন গারি ভারা করে অরণ্যে ঘোরা টাও কম রোমাঞ্চকর নয়, জীব-জন্তুর দেখা পাবার গ্যারান্টী না দিলেও বোলছি, অরণ নিরাশ কোরবেনা আপনাকে। আর আছে গাঙ্গুলীদা আর বৌদির আপন করে নেবার সান্নিধ্য, যা ফেরার দিন আপনার চোখের কোনে জল আনার পক্ষে য়থেষ্ট। মনোহরপুর এক নেশা, আমি ১৪ বা রেও যা কাটাতে পারিনি।
যোগাযোগ : শ্রী অভিজিত গাঙ্গুলী, মনোহরপুর, পশ্চিম (ওয়েস্ট) সিংভূম, ঝারখন্ড-৮৩৩১০৪, ভারত