Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
রোটাং পাসের কথা প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন আইভি চ্যাটার্জী   
আর্টিকেল সূচি
রোটাং পাসের কথা
পাতা 2
পাতা 3

সেই কোন ছোটবেলায় রূপকথার গল্পে পড়তাম...অরুণ-বরুণ-কিরণমালা...তিন ভাই বেন...একদিন কোন অজানার সন্ধানে এক এক করে বেরিয়ে পড়ল দূরের পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। সেই পাহাড়ে ফিসফাস কথা, হঠাৎ হঠাৎ দীর্ঘশ্বাসের শব্দ, চড়াইয়ের সময় পিছুহাক...আর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। যুগযুগান্ত ধরে। সেই পাহাড়ে পাথর হয়ে আছে কত মানুষ, রাজপুত্র থেকে কাঠুরিয়া...অরুণ-বরুণ দুজনে পাথর হয়ে সেখানেই থেকে গেল। তারপর কিরণমালা। সেই রকম মানুষ, যাঁরা চূড়ায় পোঁছবার জন্যেই জন্ম নেন...পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে পা ফেলে উঠে যান সেই অসীমের উদ্দেশ্যে। চূড়ায় পৌঁছে আকাশটাকে ধরে ফেলেন, সেই আকাশ বুকে নিয়ে নেমে আসেন সংসারে। আরো অনেক মানুষকে সেই ঠিকানা দিতে।

আজন্ম পাহাড়-জঙ্গলের মানুষ আমি। পাহাড় আমায় খুব টানে। কালো কালো পাথরের জীবন্ত ছবি...ঐ যেন এক নুইয়ে পড়া বৃদ্ধ, এই আবার একটা কালো হাতি, কোথাও ঠিক একটা বিশাল ক্যানভাস...ঠিক যেন ভাস্করের নিপুণ হাতে গড়ে তোলা এক অপরূপ ভাস্কর্য। পাহাড় আমায় ? টানে। বেড়াতে যাবার কথা হলেই আমি পাহাড়ের কথা বলি্ আমার স্বামী আর মেয়ে সমুদ্রপ্রেমী। অতল জলের আহ্বানে তাদের মন উচাটন হয়। বেড়াতে যাবার কথা শুরু হলেই তাই আমি রোজ পাহাড় নিয়ে কথা বলি। পাহাড়ের নীলচে সবুজ রঙ, মেঘেরা কেমন চূড়ায় এসে পা ঝুলিয়ে বসে সেই কথা তুলি, ঘন সবুজ বনানী, নেই মানুষের ভিড়, নেই কোন কোলাহল, নির্জন অপরূপা প্রকৃতি। বলে বলে পাহাড় এনে ফেলি ঘরের মধ্যে, বুকের মধ্যে। বনমাতাল মন ততক্ষণে ছুট দিয়েছে সেই অজানার উদ্দেশ্যে।

গরমের ছুটিতে হিমাচল প্রদেশ যাওয়া ঠিক হল। একদিকে বরফের শ্বেতমুকুটের শিবালিক আর ধৌলাধার পর্বতশ্রেণী, আর এক দিকে বিয়াস-চন্দ্রভাগা-শতুদ্র-বিয়াস-ইরাবতীর স্রোত, পাইন-ওক-ফারের জালে চেনা-অচেনা রঙীন ফুলের হিমাচলপ্রদেশ। সিমলা-কুলু-মানালি-রোটাং ঘুরে মণিকরণ হয়ে ফেরা।

রাজনৈতিক ও ভৌগলিক নানা ঘটনার সাক্ষী হয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ জানুয়ারী স্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদা পায় হিমাচলপ্রদেশ। আমাদের গন্তব্য কুলু ভ্যালি। দিল্লী থেকে কালকা। কালকা থেকে টয়ট্রেন বা ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে সিমলা যাওয়া যায়। আমরা গাইড ভাড়া করেই গিয়েছি। সিমলার প্রাণ হল তার ম্যাল। শহর জুড়ে বৃটিশ আধিপত্যের ছাপ। বৃটিশ স্থাপত্যের বাড়ি, অফিস। সুন্দর এই পাহাড়ী শহরে তিনদিনের বাস আমাদের। তারপর মানালি। কুলু ভ্যালির শেষ শহর মানালি।

পাই-দেবদারুতে ছাওয়া শান্ত পাহাড়ে শহর মানালি্ আমরা সিমলা থেকে গাড়িতে যাওয়া ঠিক করলাম। লম্বা লম্বা গাছের জাল, মাঝখানে দিয়ে চলে গেছে সরু লম্বা কালো পিচের রাস্তা, রাস্তা থেকেই সঙ্গী হয় অপরূপা বিপাশা।

পথের ধারে অসংখ্য গোলাপ। আর আপেল গাছ। সোনালি আপেল, লাল-গোলাপ-হলুদ গোলাপ।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন