Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
কাকু প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন বিচ্ছু   
আর্টিকেল সূচি
কাকু
পাতা 2
পাতা 3

উত্তর প্রদেশের একটি ধ্যারধ্যারে গ্রাম। গ্রামের মাঝে ছোটো রেল স্টেশান। কাঠফাটা রোদ। ট্রেন থেকে নামল চারটি যুবক। বয়স কুড়ির কাছাকাছি। চার জনেরই পরনে কেতাদুরস্ত জামা কাপড়—জিন্স, টিশার্ট ও স্নিকার। টিশার্টের ওপর “Pink Floyd”, “Born to be wild”, “Recycle for better life” এই ধরনের বিভিন্ন বক্তব্য। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এরা শহর থেকে আগত। শহরের বাইরে হয়ত কোনদিন পা রাখেনি।

ট্রেনটা আস্তে আস্তে স্টেশান ছেড়ে চলে গেল। দলটা খানিক্ষন দাঁড়ালো। স্টেশানটা পর্জ্যবেক্ষণ করলো। একজন বলল “কি জায়গা মাইরি!” অন্য আর একজন বলল “বলেছিলাম শালা বাল মে কুছ কালা হায়! এত পয়সা থার্ড ইয়ার ট্রেনিংএ কেউ দেয় না। কথা শুনলি না তো তোরা!” সবাই হেসে উঠলো। প্রথম জন বলল “আবে ননি, বাল না, ডাল। বাল তো শালা কালা হবেই”। ননি চুপ। রামকৃষ্ণ মিশনে পড়া একটু ভিতু ছেলে। তার হিন্দির দৌড়ও একটু কম। বাকি যে দুজন এতক্ষন চুপ করে ছিল তাদের মধ্যে একজন বলল “তুম লোগ বং মে কিঁউ বাতে করতে রেহতে হো? এক তো সালা কাঁহা আকে ফাস গায়ে, উপার সে তুম দোনো বং মে বুরবুর করতে রাহতে হো!” প্রথম জন বলল “আবে মেনন্‌, তোর মা তো বাঙ্গালী, তোর বাপের কি হয়েছিল রে?” মেনন্‌ প্রথম জনকে মারতে ছুটলো। অবস্থা সামাল দিতে বাকি দুজনও ছুটলো। সামাল দাওয়ার অবশ্য প্রয়োজন হল না। মেনন্‌ খানিকটা শান্ত হয়ে বলল “দ্যাখ রাজা, তুই আমাকে যা বলবি বল, বাপের নাম নিবি না”।

Image
অলংকরণ - সৌরভ চক্রবর্তী

চার জন প্ল্যাটফর্মের মাঝখান থেকে শেষ প্রান্তে কথা বলতে বলতে হেঁটে চলল। এরা চারজনই খড়গপুর আই আই টির ইঞ্জিনিয়ারিংএর ছাত্র। রাজা ও আরিন্দম ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া কলকাতার ছেলে। আমেরিকান আদব কায়দা ওদের নখদর্পণে। অবশ্য এত কায়দা রপ্ত করেও ওদের এখনো মেয়ে বন্ধু জোটেনি। ননি ব্যান্ডেলের ছেলে। তার মধ্যে বাঙ্গালীয়ানা সব থেকে বেশি। সে এখনো সিগারেট, মদ ইত্যাদিগুলো ধরেনি। মেয়ে বন্ধু হয়ত আছে, তবে সে খবর সে কাউকে দিতে অনিচ্ছুক। মেনন্‌এর পূর্বপুরুষরা যদিও কেরালার, সে বড় হয়েছে মধ্য প্রদেশে। তার পড়ার ইচ্ছা ছিল কানপুর আই আই টিতে। মামা বাড়ি কলকাতায় হওয়াতে মা’র চাপাচাপিতে সে এসে পরেছে খড়গপুরে। তিন বছর পরও এ নিয়ে তার দুঃখের অন্ত নেই।

অরিন্দম কোনো কথা না বলে এতক্ষন একটু আগে আগে চলছিলো। এবারে এসে দলের সাথে মিশে বলল “কখন থেকে শালা পি পেয়ে গেছে, একটা পি মারারও জায়গা নেই!” তার কথায় বোঝা গেল যে সে এতক্ষন এগিয়ে গিয়ে একটা বাথরুম খুজছিল। রাজা বলল “গাছের তলায় মেরে আয়। বাথরুম কোথায় পাবি এখানে?” অরিন্দম বলল “ঠিক আছে, তোরা একটু দাঁড়া, আমি এক্ষুনি আসছি”। মেনন্‌ বলল “নাহি ইয়ার দম্‌, ইতনি ধুপ মে খড়া নহি রেহ সক্‌তা। তু যা কে পি মার। হামলোগ্‌ যা কে বাস কা পতা লাগাতে হ্যায়”। সবাই রাজী হল এই পরামর্শে। অরিন্দমকেও রাজী হতে হল। প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমে তিনজন চল্ল একটা কাঁচা পথ কে অনুসরণ করে। অরিন্দম গেল আড়ালের খোঁজে। দূরে দেখা যাচ্ছে একটা জটলা। মনে হয় বাস স্ট্যান্ড। তবে বাসের কোনো চিহ্ন নেই। মেনন্‌ বলল “আবে রাজা, তেরা ওয়হ জো বাপকা দোস্ত হ্যায় না, মজুমদার, উস্কো ফোন লগা না!” রাজা খিঁচিয়ে উঠলো “কিঁউ বে?” মেনন্‌ বলল “ম্যানেজার হ্যায় তো উস্কা গাড়ি জরুর হোগা। রাইড তো দে সকতা হ্যায়”। রাজা খানিক্ষন ভাবলো, তারপর পকেট থেকে মবাইল বার করে ডায়াল করতে ব্যাস্ত হল।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন