Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
আমাকে তোমরা কেউ ভালবাসো না প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ভাস্কর রায়   
আর্টিকেল সূচি
আমাকে তোমরা কেউ ভালবাসো না
পাতা 2
পাতা 3

আমাকে তোমরা কেউ ভালবাসো না। গভীর গভীরতর এক অভিমানে তাই কখনো কখনো আমার সারা শরীর ঘূসর হয়ে আসে। নিজেকে মনে হয় কী ভীষণ একলা, নিঃসঙ্গ। সেই সময় তোমাদের সব্বার থেকে অনেক অনেক দূরে সরে যেতে ইচ্ছে হয়। তারপরেই মনে পড়ে যায়, তার কোন উপায়ই নেই। অজানা কোন এক নিয়মের কারণে তোমাদের না-ভালবাসার সঙ্গেই আমাকে সহবাস করতে হবে অনেক অনেক কাল, বুঝি বা অনন্তকাল, যতদিন টিঁকে থাকবে তোমাদের অস্তিত্ব, কিম্বা আমার।

জন্মের মুহূর্তটা অবশ্য ঠিক মনে পড়ে না আমার। কী ভীষণ উত্তাপ, সূর্যের গলন্ত এক টুকরোর মধ্যে আমার প্রথম প্রাণচেতনার সঞ্চার, তারপর আমি টের পাই অগণনযোগ্য, নিরবধি এক কালপ্রবাহকে, সেই কালপ্রবাহের মধ্যেই কোথাও যেন বা ধীরে ধীরে শীতল হয়ে আম্চর্য এক নাসপাতিস্বরূপ রূপ পরিগ্রহ করতে থাকলাম আমি নিজে, তারপরে কবে এক কালে আমার বুকে এলো এককোষী এমিবা, আর তার থেকেই লক্ষকোটি বছর পরে বহু বিবর্তনের পরে এলো সুসভ্য মানুষ। আর তারপর তারাই দিল আমার নাম, পৃথিবী। এতদিন কেউ নাম ধরে ডাকে নি আমায়, কারু মনে হয় নি যে আমার নাম নেই কোনো, মানুষই প্রথম নাম দিলো আমায়, আর যেহেতু ফর্মুলা বলে, যে নাম দেয় ভালবেসে, তার ভালবাসা ওইখানেই শেষ হয়ে যায় না, পরেও সে ভালবাসে খুব খুব বেশি, তাই নিশ্চিত ছিলাম আমি, যে মানুষই হবে আমার প্রথম প্রেমিক। কিন্তু সেই ভাবনাগুলো কিছুতেই মিললো না, আমার মনে হলো, একটু একটু করে মনে হতে থাকলো মানুষের কাছ থেকে, মানে তোমাদের কাছ থেকে ভালবাসা প্রত্যাশা করে আমি যেন আসলে একটা গরম লৌহশলাকা হাত দিয়ে ধরার অপরাধ করে ফেলেছি। এমনটা করেছি, তাই ভালবাসা তো পাই-ই নি, উল্টে হাত পুড়ে গেছে আগুনে, ফোস্কা আর কালশিটে পড়েছে জায়গায় জায়গায়, আহত চোখে হতবাক হয়ে আমি তোমাদের দিকে চেয়ে ভাবছি, ঠিক এই ব্যবহারটুকুই কি প্রাপ্য ছিলো আমার?

আর তোমরা তোমাদের চোখগুলো সরু-উ-উ করে ছুঁচলো করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভাবছো, নাহ্ যথেষ্ট পোড়ে নি এখনো ওর হাত. পড়েনি এখনো যথেষ্ট দহন চিহ্ন, আরো একটু কষ্ট দাও ওকে, আরো একটু কষ্ট, কারণ কষ্ট দিলে, যন্ত্রণা দিলে, ওর চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে থাকে, আর তবেই ওর রূপটা বেশ খোলতাই হয়ে ওঠে।

সেই থেকেই তো বুঝলাম যে তোমরা আমাকে কেউ ভালোবাসো না, একটুও ভালবাসো না। না হলে, আমি তো তোমাদের মায়ের মতোই প্রায়, সেই মা-কে কেউ কখনো এত কষ্ট দিতে পারে, বলো?

এরপরও যারা ভাবছো আমি তোমাদের বানিয়ে বানিয়ে এসব কথা বলছি, তারা বলো, যদি আমাকে ভালই বাসবে, তবে তোমাদেরই একজন, ভিনসেন্ট সিলভা, এই সেদিনেও পারলো কী করে অমন একটা কাজ করতে? একবারও হাত কাঁপলো না ওর? কিম্বা সঈদ-এর? সঈদ-ই তো ‘মাদুরাই বীরণ’ ছবিটার প্রযোজক, শেষ সিদ্ধান্তটা তো ও-ই নিয়েছিলো, নাকি? আমার শরীরের কোথাও কোন একখানে সেই যে আছে আলাঙ্গানাল্লুর নামে এক জেলা, সেখানে চাষিদের কাছ থেকে সতের একর জমি কিনে নিয়েছিলো তো ও-ই, আর একর প্রতি দাম দিয়েছিলো মোটে চার হাজার টাকা করে, অর্থাৎ মোটে আটষট্টি হাজার টাকা। সঈদ-এর মতো কোটি-কোটিপতি প্রযোজকের কাছে টাকাটা কী ভীষণ রকম তুচ্ছ না? কিন্তু যে কারণে ও কিনে নিলো জমিটা সেটাও কি একইরকম তুচ্ছ? বলো, বলো তোমরা? বলো?

সেই সূর্যের-অদ্ভুত-উত্তাপ-মাখা বিকেলবেলাটার কথা এখনো কী ভয়ংকরভাবেই না মনে পড়ে আমার। নগর থেকে হাজার যোজন দূরে, আলাঙ্গানাল্লুরের কোনো এক কোণে। দুপাশে দিগন্ত ছোঁয়া ভূট্টাক্ষেত, মাঝে সরু সিঁথির মতো রাস্তা, সেখানে এগোব-কী-এগোব-না করে চলতে চলতে থেমে গেলো একটা কুচকুচে কালো কাঁচ-ঢাকা বিদেশিনী গাড়ি। খুব সন্তর্পনে কেউ একজন ভিতর থেকে নামিয়ে নিল কালো কাঁচটুকু, এতটাই সন্তর্পনে, যাতে একটুও না টাল খায় গাড়ির ভিতরের শীততাপনিয়ন্ত্রণটুকু। তারপর গভীর কালো চশমা ঢাকা চোখদুটো বাইরের দিকে মেলে সে খুব নিষ্প্রাণ আর কঠিন মুখে বললো, বাহ্। তারপর বললো, গুড ক্রপ। ভালই ভূট্টা হয়েছে। তারওপর বললো, সিলভা, তুমি এই লোকেশনের কথাই তো বলেছিলে, নাকি?



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন