Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
চিঠি - ১ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ভারাতীয়   

To,
Our fellow country men,
[Sub: আমরা কি ক্রমশ মানসিক ভাবে মৃতে পরিণত হচ্ছি?]

এই প্রশ্নটা হয়তো এখন ভারতের অধিকাংশ জনগণের কাছে প্রধান প্রশ্ন রূপে পরিণত হচ্ছে। আমরা নিজেরাই ভেবে পাচ্ছিনা যে, আমরা শারীরিক দিক দিয়ে সম্পূর্ণভাবে জীবিত হলেও মানসিকভাবে কি মৃত? আমার নিজেরও এই একই প্রশ্ন। যদিওবা আমি এইটুকু বুঝতে পেরেছি, নিজের দিক থেকে, আমরা মানসিক ভাবে মৃতে পরিণত হচ্ছি না। কারণ আমরা স্বাধীনতার পরে আমাদের স্বার্থলোভী কিছু রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে মানসিক দিক দিয়ে মৃতে পরিণত হয়ে গেছি। অতএব তাই আর কোনো ভয় নেই। আমাদের আর কেউ মানসিক দিক দিয়ে হত্যা করতে পারবেনা।

অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা জাগতে পারে যে, হঠাৎ আমি এই প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা করছি কেন? যদিও বা বর্তামানে ভারতে এরকম অনেক মানুষ আমরা দেখতে পাই যারা দাবী করে যে, তারা শারীরিক এবং মানসিক দুই তরফ থেকেই সম্পূর্ণভাবে জীবিত। কিন্তু এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা খুবই দুঃসাধ্য। যেহেতু এই ধারণাটা সম্পূর্ণভাবেই আমাদের মনের ভিতর জন্মায় এবং মনের ভিতরই এর মৃত্যু ঘটে তাই এর কোনো পোসর্টমটেম করা যায়না অর্থাৎ কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও নেই যে কোনো মানুষকে মানসিক দিক দিয়ে মৃত প্রমাণ করার যতক্ষণ না সে নিজে থেকে স্বীকার করে বা এমন কোনো প্রমাণমূলক কাজ করে যার থেকে প্রমাণ হয় যে, সে মানসিক দিক দিয়ে মৃত।

বর্তমান ভারতের জনসংখ্যা কম বেশী ১১০ কোটি। এর মধ্যে কম বেশী ১০ কোটি লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আর বাকি ১০০ কোটি হল সেই প্রজাতির মানুষ যাদের কাজ হল ভোটের সময় ভোট দেওয়া, রিগিং-এর সময় মার খাওয়া, রাজনৈতিক দলের মিটিং-মিছিলের সময় ভিড় বাড়ানো আর প্রয়োজন মত নিজেকে রাজনীতির জন্য বলিদান দেওয়া। আমিও এই বিশেষ প্রজাতির মধ্যেই পড়ি। কিন্তু এই তথ্যটি সম্পূর্ণভাবে সঠিক তাও বলা যাবেনা। কারণ এখনও ভারতে সত্যিই এমন একটি লুপ্তপ্রায় মনুষ্য প্রজাতির অস্তিত্ব আছে যারা সবসময় যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পায়না, যারা নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। কিন্তু দুঃখের কথা একটাই এই প্রজাতির মানুষের সংখ্যা ভারতে প্রতিদিনই ভয়ানক হারে কমছে এবং যদি এর ব্যপকহারে সংরক্ষণ না হয়, তাহলে খুব তাড়াতাড়িই এই প্রজাতিটি ডাইনোসরের মতই সম্পূর্ণভাবেই বিলুপ্ত হবেনা। যদিও এই প্রজাতিটির বিলুপ্তির কারণ পৃথিবীর বুকে কোনো উল্কাপাত বা ধূমকেতুর আঘাত হবেনা। এদের বিলুপ্তির কারণ আমরাই হবো। যারা নিজেদের স্বার্থটুকু ছাড়া কিছুই বুঝিনা।

আমার এই তথ্যটিরও অনেকেই যুক্তিপূর্ণ বিরোধিতা করতে সক্ষম। আর এটা আমিও মানি যে, আমার এই তথ্যটিও সম্পূর্ণভাবে সমর্থন যোগ্যনয়। বর্তমান ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় অদ্ভুত কিন্তু খুবই ভয়ঙ্কর খাদ্য শৃঙ্খল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর আমাদের মতন দ্বিতীয় প্রজাতির ভারতীয় মনুষ্যজাতী সেই খাদ্যশৃঙ্খলের ভয়েই অন্যায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রতিবাদ করিনা বা করতে চাইনা বা করতে ভুলেগেছি। এই কাজটি অনেকক্ষেত্রেই সমর্থনযোগ্য। আমার কথা শুনে হয়তো অনেকেরই মনে হতে পারে যে, আমি হয়ত কোন একজন খুবই সাহসী, প্রতিবাদী এবং সর্বশেষে একজন সত্যবাদী ভারতীয়। কিন্তু প্রত্যেকের ভুল ভাঙ্গানোর জন্য বলে রাখি আমিও একজন সেই দ্বিতীয় প্রজাতির ভারতীয় মনুষ্য প্রজাতি যেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয় চায়না, হয় ভুলেগেছে।

অনেকেই এখন হয়তো বলতে পারে যদি আমিও সেই ১০০ কোটিরই একজন হই, তাহলে এই ধরণের লেখা লিখে আমি কি প্রমাণ করতে চাই। আমার এই লেখা লেখার কারণটি খুবই সহযবোধ্য। আমি বর্তমানে বুঝতে পারছি যে, আমিও অন্যান্যজনের মতই মানসিক দিক থেকে একজন মৃতে পরিণত হতে চলেছি। কিছুদিন আগে পর্যন্তও আমার মধ্যে যেটুকু প্রতিবাদের ইচ্ছা শক্তি জীবিত ছিল সেই শক্তিটা সম্পূর্ণভাবেই (বা আর খুবই অল্পঅংশ হয়তো বাকি) নিঃশেষিত হতে চলেছে। আর এই লেখাটি আমি আমার মৃত মানসিকসত্তার আগাম একটি স্মৃতি সৌধ বানাবার জন্য লিখেছি। আমার মধ্যেও বর্তমানে একই বৈশিষ্ট্য আপনারা লক্ষ্য করতে পারবেন যা আপনি অপর একজন ভারতীয় সাধারণ নাগরিকের মধ্যে দেখতে পাবেন। আমিও ঐ ১৩০ কোটি ভারতীয়র মধ্যেই পড়ি।

আজ আমরা ভারতের সাধারণ নাগরিক হয়ে সবদিক দিয়ে পদ-দলিত। এই তথ্যটিও আবার সম্পূর্ণ সত্য নয়। কারণ ভারতে আমাদের মধ্যেও এমন কিছু গোষ্ঠীর মানুষ আছে যারা সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছেমতন বাঁচতে পারে এবং যা চায় তাই করতে পারে। তাদের কথা অনুযায়ী ভারত সত্যিই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে নাগরিক সেবাই হল প্রত্যেক রাজনীতিক এবং রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ। আমাদের মতন নাগরিকদের সেবা করার জন্যই ভারতের সীমান্তে সেনা সবসময় বন্দুক,কামান হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের সমাজের ভিতর প্রতিরক্ষা দেওয়ার জন্য পুলিশ-প্রশাসন সবসময় তটস্থ আছে। আমাদের সুবিধা এবং উপকারের কথা ভেবে ভেবে দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের রাতের ঘুম উড়ে যাচ্ছে, প্রত্যেকটি প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিকে তার বিশেষ দামী মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে। কিন্তু আমার দেওয়া তথ্যের মতনই এই তথ্যটিও প্রচন্ডভাবে সন্দেহ জনক। আদৌ কি আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাস করছি। যেখানে নাগরিক সুবিধাই প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক নেতাদের প্রধান চিন্তার কারণ। ভারতেকি আদৌ সেই সমাজ ব্যবস্থা আছে যেখানে পুলিশ প্রত্যেক পরিস্থিতিতেই সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার কথা চিন্তা জাতী-ধর্ম নির্বশেষে। এখানে কি সত্যিই প্রত্যেকটি প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা সাধারণ নাগরিকদের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাত-দিন এক করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে? কিন্তু একটা বিষয়ে নিশ্চই একমত হওয়া যায়। আমাদের সৈন্য-বাহিনী সত্যিই সীমান্তে আমাদের তথা ভারতের সুরক্ষার জন্য দিন-রাত্রি নিজের জীবন বিপন্ন করে বন্দুক-কামান হাতে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছু কিছু সময় বা পরিস্থিতিতে তাদের ভারতের আভ্যন্তরীন সমস্যা সমাধানের জন্যও বন্দুক-কামান হাতে দাঁড়াতে। এক্ষেত্রে তাদের একটাই উদ্দেশ্যথাকে একথা স্পষ্ট এবং সেই উদ্দেশ্য হল দেশের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা। কিন্তু এই সব সৈন্যদের যেসব কর্তব্যক্তি বা রাজনীতিকরা পরিচালনা করেন তাদের উদ্দেশ্যকি সবসময় দেশের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তাই থাকে? যদি থাকে তাহলে ভারতের মত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কিভাবে মুম্বাই ও গুজরাতের মত দুটি রাজ্যে দুটি বিশেষ ধর্ম ভিত্তিক নৃশঃস দাঙ্গা ছড়াতে পারে? দুক্ষেত্রেই যে সেনা পরিচালনায় তাদের পরিচালকরা সম্পূর্ণরূপে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন সেটা কি সম্পূর্ণভাবেই অনিচ্ছাকৃত? হয়তো আমার ধারণা এবং সন্দেহ সম্পূর্ণভাবেই অমলূক। দুইক্ষেত্রেই সৈন্য-বাহিনীর পরিচালকরা যে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে ছিলেন তার কারণ হয়তো তথাকথিত অনভিজ্ঞতাই। এটাও সত্যি যে, ভারতের মতন একটি বৃহৎ দেশ পরিচালনা করাওতো সহয নয়। আর আমাদের যেসব বর্তমান দেশ-পরিচালক আছেন তারা খুবই অনভিজ্ঞ। কারণ দেশটাও তো সবেমাত্র ৬০ বছর আগে স্বাধীন হয়েছে।

বর্তমান ভারতীয় সরকার একটি বিশেষ নীতির ওপর জোর দেবার চেষ্টা করছে। সেটা হলো সংখ্যালঘু উন্নয়ন। এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। স্পর্শকাতরতার কারণ একটাই এবং সেটি হলো সংখ্যাগুরুদের অসন্তুষ্টি। আমাদের দেশের তিনটি নাম একটি ইন্ডিয়া, দ্বিতীয় ভারত এবং তৃতীয়টি হল খুবই পুরাতন এবং সেটি হল হিন্দুস্থান। আর স্পর্শকাতরতার শুরু এই হিন্দুস্থান থেকেই। ভারতে আমাদের মধ্যে আরো একটি গোষ্ঠী আছে যারা মনে করে যে, ভারতের নাম বদলে হিন্দুস্থান হওয়া উচিত এবং এই নামের পরিবর্তন কেবল নামেই সীমাবদ্ধ থাকলে হবেনা তাকে বৃহত্তর ক্ষেত্রেও সফলতা অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ ভারতে যেসকল অ-হিন্দু (বিশেষত মুসলমান) আছে তাদের হিন্দুতে রূপান্তরিত করতে হবে নচেৎ ভারত থেকে বিতাড়িত করতে হবে অথবা মেরেই ফেলতে হবে। এর জন্য তারা বিশেষ কিছু হিন্দু দেব-দেবীর নাম ব্যবহার করে থাকে। যেসব হিন্দু দেব-দেবীর নাম তারা ব্যবহার করে থাকে তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ‘রাম’। যদিও বা কার্যক্ষেত্রে ‘মহাদেব’ বা ‘শিব’-এর নামই বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। এদের মতে পৌরাণিক ভারত যেমন একটি সম্পূর্ণ হিন্দু রাষ্ট্র ছিল বর্তমানের ভারতকেও তার মতনই একটি হিন্দু রাষ্ট্রেই রূপান্তরিত করতে হবে। আর কোনো সরকার যদি এই সংখ্যাগুরু গোষ্ঠীর এইজাতীয় ভাবাবেগে সংখ্যালঘু উন্নয়নের নাম করে আঘাত হানার চেষ্টা করে তাহলে এই গোষ্ঠীর তৃতীয় চিন্তাটি বাস্তবে রূপান্তরিত হতে বিশেষ সময় লাগবেনা। কিন্তু সরকারেরও আর কিছু করার নেই। একটি বিশেষ রিপোর্ট অনুসারে ভারতীয় মুসলিম (মুসলিমরাই হল ভারতের প্রধান সংখ্যালঘু। যদিও বা ভারতীয় মুসলিমদের সংখ্যা কিছুদিন আগে পর্যন্তও পাকিস্থানের থেকেও বেশী ছিল) আমাদের সমাজব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্যূত হয়ে গেছে। তাদের শিক্ষার মান ভয়ানক ভাবে তলানিতে এসে ঠেকেছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ভারতীয় মুসলিমরা হিন্দুদের তুলনায় কয়েকযুগ পিছিয়ে গেছে। আর ভারতে জঙ্গি তৎপরতার কারণও হলো ভারতীয় মুসলিমদের ক্রমাগত পিছিয়ে পড়া। ভারত সরকার এখন বুঝতে পারছে যে, শুধুমাত্র সৈন্যশক্তি দিয়ে এই মুসলিম জঙ্গি তৎপরতা কোনোভাবেই প্রতিরোধ করা যাবেনা। এরজন্য অন্যকোনো বিকল্প রাস্তা বের করতেই হবে। যাই হোক যদি এই রিপোর্টের সার্থক রূপান্তর হয় তাহলে একটা কথা পরিষ্কার ভারতীয় মুসলিমরা একটু হলেও ভারতীয় হিন্দুদের সাথে তালমিলিয়ে হাঁটতে পারবে এবং তাদের ভারতবিরোধী চিন্তাভাবনাও (সরকারী রিপোর্ট অনুসারে) অনেকাংশে কমে আসবে। কিন্তু এখানেও একটা অসুবিধা আছে। রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুদের সামাজিক অবস্থাকে খুবই খারাপ দেখানো হয়েছে। আর একটি যে চিত্র দেখানো হয়নি সেটি হলো ভারতের সংখ্যাগুরুদের মধ্যেও কিছু সম্প্রদায়ের (একই ধর্মাবলম্বী হয়েও) ক্রমাগত পিছিয়ে পড়া। ভারতীয় সংবিধান অনুসারে এদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা- সিডিউল কাস্ট, সিডিউল ট্রাইব ও আদার ব্যাকওয়ার্ড কাস্ট। এদের জন্যও যদিও বা আমাদের সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হল যে, এদের জন্য শিক্ষা, চাকরি এবং আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংরক্ষণ। কিন্তু এদের সংরক্ষণ দিতে গিয়ে সরকার সংখ্যাগুরুদের আরো একটি সম্প্রদায়কে ভয়ানক রূপে সংখ্যালঘুতে পরিণত করে দিয়েছে। এরা হল সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের গরীব বা নিম্নমধ্যবিত্ত বা অনেকক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। এরা ভারতীয় সংবিধান অনুসারে জেনারেল কাস্টের মধ্যে পড়ে। কিন্তু এদের মধ্যে অনেকেই দুবেলার খাবার পর্যন্ত জোগাড় করতে পারেন না। বর্তমান ভারতের যা আর্থসামাজিক অবস্থা তাতে এই সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের পক্ষে হয়তো তাদের সন্তানদের পড়ানো বা ভালো পুষ্টিকর খাবারের জোগান দেওয়া আর সম্ভব হবেনা। সরকার পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়দের জন্য যেসব সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে সেই পদ্ধতিতে সত্যি কারের পিছিয়ে পড়া মানুষেরা কখনই উপকারিত হয়নি আর ভবিষ্যতেও হবেনা। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, একটি পরিবার সিডিউল কাস্ট হয়েও যথেষ্ট উন্নত মানের জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়েও সরকারী সংরক্ষণের সুযোগ নিতে পিছপা হয়না। এর ফলে আর কারুর অপকার হোক বা না হোক আর একটি সিডিউল কাস্ট/সিডিউল ট্রাইব/ আদার ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসের কোনো দরিদ্র পরিবারের যে কি ক্ষতি হয় থাকে তা সহযেই অনুমান করা যায়।

উপরের এই আলোচনা থেকে হয়তো অনেকেই ভাববেন যে, আমি হয়তো লিখতে লিখতে পথভ্রষ্ট হয়েছি। কিন্তু আমার উপরের এই আলোচনাও আমার আসল উদ্দেশ্যের সঙ্গে ভীষণ রকম ভাবে জড়িয়ে। বর্তমানে অনেক রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতা এবং বিশেষ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের দেশের বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়দের নিয়ে খুবই উঠেপড়ে লেগেছে তাদের উন্নতি সাধনের জন্য। কিন্তু এই চেষ্টাটা যদি সম্পূর্ণরূপে তাদের উন্নতি সাধনের উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত তাহলে তা সত্যিই একটা ভালো কাজ হতো। কিন্তু দুঃখ একটাই, ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন রাজনীতিক এবং বিশেষ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্পূর্ণভাবে এই সব সম্প্রদায়ের উন্নতিসাধনের জন্য এই ধরণের উন্নতিমূলক কাজকর্ম করেনা। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ভোট বা নির্বাচনে জয়ের জন্য। এখানে হয়তো কেউ বলতে পারেন যে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেরা নির্বাচনে জেতার জন্য কেন কাজ করবে। এখানেই তো আরো বড় গল্প। আমরা অনেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নাগরিক উন্নয়নমূলক কাজকর্ম দেখে খুবই আনন্দিত হই। কিন্তু আমরাও জানি যে, বিশেষ কিছু স্বেচ্ছাসেবী দল বিশেষত নির্বাচনের সময় গজিয়ে ওঠে এবং তারা নাগরিক উন্নয়নের জন্য নিজের প্রাণ পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত হয়ে পড়ে। এটা অনস্বীকার্য যে এইসব স্বেচ্ছাসেবী দলগুলি বিশেষ কতগুলি রাজনৈতিক দল দ্বারা পরিচালিত হয় এবং তার ফলে তারা তাদের দলকে নির্বাচনে জেতানোর জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্যিই কিছু নাগরিক উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। যদিও বা এটা খুব যে খারাপ কোনো ব্যাপার তা নয়। কিন্তু অসুবিধাটা অন্য যায়গায়। এইধরণের কাজ গুলি বাস্তবে করার থেকে এরাও এদের রাজনৈতিক গুরুদের মতনই প্রতিশ্রুতি দিতেই বেশী ভালোবাসে এবং সেই প্রতিশ্রুতি অবসম্ভাবী ভাবে নির্বাচনে জেতা বা হারার পর ভুলে যাওয়া হয়। আর আমরা যারা অনেকেই এই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তারা সবকিছু জেনেও চুপ করে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করিনা। করবই বা কেমন করে। আমাদের করার সমস্ত ইচ্ছাশক্তি বিলুপ্ত হয়েছে। অনেকক্ষেত্রেই আমরা নিজেরাই তাকে বিলুপ্ত করে দিয়েছি বা দিতে বাধ্য হয়েছি পরিস্থিতির চাপে পড়ে। এখানে সবসময় নিজেদের বা অন্যকাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমরা যে দেশে বাস করি সেখানে একজন নাগরিকের পক্ষে কোনো অন্যায় করা এবং অন্যায় করে সেই অন্যায়ের শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়া যতটা সহয ততটাই শক্ত ভারতবর্ষে থেকে ভারতবর্ষের সমাজব্যবস্থায় নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়ে নিজেকে সৎ হিসাবে ধরে রাখা।

আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু করিনা যতক্ষণনা পর্যন্ত কোনো অন্যায় আমাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করে আর আমাদের এই না করার অভ্যাস আমাদের এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে যেখান থেকে আমাদের শত চেষ্টাতেও আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই আমার অনুরোধ আমার এই লেখা যদি পড়েন তাহলে দয়া করে উত্তেজিত হয়ে পড়বেননা। আমি যদি ভুল বশত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করে থাকি তাহলে আমাকে দয়া করে মাফ করে দেবেন। আর আপনি যদি আমার লেখা পড়ে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন (যদি আপনিও আমার মত একজন ভারতীয় হন) তাহলে মনে রাখবেন আপনার জীবন বর্তমানের থেকে একটা সম্পূর্ণ বিপরীত বাঁক নিয়ে নানা রকম অসুবিধার মধ্যে আপনাকে ফেলতে পারে। তাই নিজেকে পরিবর্তিত করার আগে সাবধান! ভারতীয় গণতন্ত্র এবং সমাজ ব্যবস্থা আপনার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে!



From,
আপনাদেরই মতন একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক
Comments (0) >>
Write comment

This content has been locked. You can no longer post any comment.


busy
 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন