Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
যার যাতে মজে মন প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অসীমকুমার   

দিন ও কালের সাথে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়। বিয়ে বলতে আগে ছিল নারী ও পুরুষদের মধ্যে মিলন ঘটান। সন্তান উৎপাদন ও সপ্তপদীর প্রতিজ্ঞায় নিজেদের একই সুত্রে বন্ধন করা। দায় দায়িত্ব বহন করা।

এর পর শোনা গেছে মানুষের সাথে অমানুষের বিবাহ। জীব জন্তুর প্রতি ভালোবাসায় কেউ কেউ ঘোড়া, কুকুর, সাপ, ভেড়া ও ডলফিন কে বিয়ে করেছেন। এই বিয়েরপ্রভাব খুব নগন্য হলেও ভারতের বাইরেও তা শোনা গেছে।

আজকাল সমবিবাহ বা পুরুষের সাথে পুরুষের ও নারীর সাথে নারীর বিবাহের খবর খুবই শোনা যায়। গে, লেসবিয়ানরা তো তাদের অধিকার নিয়ে পৃথিবী জুড়ে আন্দোলন করে চলেছেন। সমবিবাহ বলতে এখানে প্রধানত এদেরকেই বোঝায় :-

  • Gay Marriage
  • Lesbian Marriage
  • Gender Neutral Marriage
  • Home sexual Marriage
  • Same Gender Marriage

সমবিবাহ ঠিক কি বেঠিক সেই বিষয় অনেক প্রশ্নের ঝড় উঠেছে সারা বিশ্ব ব্যাপী। কিছু দেশের কিছু জনগন তা মেনে নিয়েছেন আবার কেউ তার বিরোধিতাও করেছেন। তাই কোনো সমালোচনা না করেই আজ অবধি যে টুকু দেখা গেছে তার কথাই আলোচনা করা যাক। সম জাতীয় বিবাহ যে সব দেশে হয়েছে বা স্বীকৃতি পেয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম করাবর মত সব দেশ হল।

বেলজিয়াম
দেশ সাল সমবিবাহ অনুষ্ঠিত
২০০৩ সর্ব দেশ ব্যাপি
স্পেন ২০০৫ সর্ব দেশ ব্যাপি
কানাডা ২০০৫ সর্ব দেশ ব্যাপি
ইসরায়েল *** ২০০৬ নিজের দেশে নয়**
দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০৬ সর্ব দেশ ব্যাপি
আমেরিকা * ২০০৬ ম্যাসাচুসেট্স স্টেট মাত্র

কিন্তু তবুও হয়ত এখনো এই ধরনের বিবাহ সবাই মেনে নিতে পারেন নি। অনেক দেশ বা রাষ্ট্র তাকে এখনো স্বীকৃতি দিতে পারেনি। যে সমস্ত দেশে এখনো এই সমজাতীয় বিবাহ নিয়ে মতভেদ বা বিতর্ক চলেছে তাদের মধ্যে এই সব দেশ এসে পড়ে:

  • আরুবা
  • অস্ট্রেলিয়া
  • চায়না
  • ইস্টোনিয়া
  • আয়ারল্যান্ড
  • লাটিভা
  • লিথুয়ানিয়া
  • নিউজিল্যান্ড
  • পর্তুগাল
  • রোমানিয়া
  • সুইডেন
  • তাইওয়ান
  • ইউনাইটেড কিংডম
  • ইউনাইটেড স্টেটস:

তবে ইউনাইটেড স্টেটস এর মধ্যে যে সব যায়গাতে এই জাতিয় বিবাহ নিয়ে তর্কের ঝড় উঠেছে তারা হল: ক্যালিফোর্নিয়া, মেরিল্যান্ড, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডি.সি, ওরিগন ও কন্টাকি।

১৯৯০-২০০০ সালে এই সম জাতীয় বিবাহ নিয়ে সারা বিশ্বে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ সমর্থন কেন আবার কেউ বা তার ঘোর বিরোধিতাও করে গেছেন।

২০০১ সালে নেদারল্যান্ড হর সর্ব প্রথম দেশ যারা এই সমবিবাহ কে আইনত স্বীকৃতি দিয়েছিল। ইসরাইল বিদেশের এই সমজাতীয় বিবাহকে মেনে নিলেও তাদের দেশে এই বিবাহ ঠিক স্বীকৃত নয়।

সমজাতীয় বিবাহ ভালো না মন্দ সে ব্যাপরে যারা খুব উৎসাহিত তারাই চিন্তা করবেন। সব কিছুরই ভালো বা মন্দ দুই দিকই আছে। এই প্রসঙ্গে মনে পড়ল আমাদের কমুনিটিতে পুর্বে একটি ফ্যামিলি বাস করতেন। তার পোশাক ও চাল চালন কিছুটা অদ্ভুত ধরনের ছিল। কিন্তু তিনি খুব ভালো লোক ছিলেন। একদিন কথায় কথায় তিনি বললেন তিনি গে। ইলিনয় স্টেটতো গে ম্যারেজ কে সাপোর্ট করে না তাই তিনি ও তার সঙ্গী চলে যাচ্ছেন ম্যাসচুসেট্স স্টেট-এ বিয়ে করতে। একটা কথা আছে না? যার যাতে মজে মন, কিবা মুচি কিবা ডোম। ভালোবাসা তো চিরকাল অন্ধ-----!

তবে সুখের কথা এই যে বিয়ের পর তাদের নাম গোত্র পরিবর্তন করতে হবে না। আর তাদের নামের আগে, মিস্টার বা মিসেস ও লেখা থাকবেনা। যুগ্ম ভাবে তাদের নামের পূর্বে-- ( The Messrs ) বা Mmes জাতীয় কিছু লেখা হবে। বেশ মজার, তাই না?

খবরে প্রকাশ যে একমাত্র ইউনাইটেড কিংহমেই এই সমজাতীয় বিবাহের সংখ্যা ২০১০ সালের মধ্যে ২২,০০০ ছাড়িয়ে যাবে। ডিসেম্বর ২০০৬ সাল অবধি এই বিবাহের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫,৬৫৭।

আজকাল তো সমজাতীয় বিবাহ ও তাদের বিবাহের অধিকার নিয়ে কত প্রশ্নের ঝড় উঠেছে। বৈদিক যুগেও সমজাতীয় বিবাহের কথা শোনা যায়না। তবে এটা তো ঠিক যে সময়ের সাথে মানুষের মনেরও পরিবর্তন হয়। স্ত্রী ও পুরুষের বিয়ে সংবিধান সম্মত। কিন্তু সেই বিবাহ কিন্তু একদম ত্রুটি মুক্ত নয়। সেইখানেও বিয়ের পর স্ত্রী নির্যাতন, পণ না দিতে পারায় স্ত্রী কে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা, পুত্র সন্তানের জন্ম না দিতে পারলে তাকে ত্যাগ করা, নারী কে সতী হতে বাধ্য করা , অপছন্দ হলে তাকে ডাইনী বলে পুড়িয়ে মারা এসব কথাও কারো অজানা নয়। সবকিছুর ভালো বা মন্দ দুই দিকই আছে। সমজাতীয বিবাহ নিয়ে আজ সারা বিশ্ব উত্ত্বাল। গে, লেসবিয়ান বা হোমেসেক্সসুয়াল দলের লোকেরাও তাদের অধিকার নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন। উঠে এসেছে একরাশ প্রশ্ন বান।

অনেকে মনে করেন যে, এই জাতীয় বিয়ের সুফল ও কুফল দুই আছে। সেই বিষয়ে একটু আলোকপাত করা যাক।

সমজাতীয় বিয়ের সুফল:-

  • এই জাতীয় বিয়েতে বিয়ের খরচ খুবই কম হয়।নেই কোন পণ বা বিশাল খরচ।
  • গে, লেসবিয়ানরা নিজেই নিজেদের মধ্যে বিয়ে সেরে নিতে পারবেন।
  • সবাই তাদের মনের মত সাথী বেছে নিতে পারবেন কারো সাহায্য ছাড়াই।
  • কাউকে বিয়ের পর নাম, গোত্র ইত্যাদি বদলাতে হবে না।
  • দুই জনের মধ্যেই সমান অধিকার ও সমান দায় দায়িত্ব থাকবে।
  • সন্তান না থাকায় উভয়েরই সন্তারের দায়িত্ব পালনের কোন ভূমিকা থাকবে না।
  • সন্তান না থাকায় সংসারের খরচ অনেক কমে যাবে।
  • সন্তান না থাকায় বিচ্ছেদ হলে সন্তানের অধিকার নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠবেনা।
  • দুই নারী বা দুই পুরুষের বিয়ে তে তাদের দৈনন্দিন চাহিদা একই থাকবে।
  • বিবাহ হল মানুষের প্রাথমিক অধিকার তাহলে এই সব গে, লেসবিয়ান বা হোমোসেক্সসুয়াল লোকেরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন কেন?

সমজাতীয় বিয়ের কুফল:-

পন্ডিতেরা সমজাতীয় বিয়ের কুফল অনেক বেশি দেখেছেন। তাদের মতে বিবাহ হল স্বামী ও স্ত্রীর আত্মার মিলন। তাই দুই পুরুষে বা দুই নারীতে বিবাহ হলে তাকেই অবমাননা করা হয়। তাই এই বিয়ে নিয়ে তারা অনেক ঝড় তুলেছে।

  • সমজাতীয় বিবাহের নারী বা পুরুষেরা কখনই ভালো অভিবাবক হতে পারেন না। এর জন্য চাই নারী ও পুরুষের সমান আন্তরিকতা। যেহেতু তাদের নিজের সন্তান নয় তাই তাদের পালনে অসুবিধা দেখা দেবেই।
  • শিশুদের তাদের নিজের পিতা মাতার দ্বারা মানুষ হওয়া উচিত।
  • সমীক্ষায় দেখা গেছে যে গে, লেসবিয়ানরা তাদের পালিত পুত্র-কন্যা দ্বারা ঘৃণা পেয়ে থাকেন। কোনো সম্মানই তাদের জোটে না।
  • নারী বা পুরুষের বিবাহ তো যুগ যুগ ধরে হয়ে এসেছে। নারী ও পুরুষ এক নয় বলে তাদের মধ্যে একটা গভীর ভালোবাসার টান থাকে। কিন্তু সমজাতীয় বিবাহে তা সম্ভব নয়।
  • সমজাতীয় বিবাহে নিজেদের সন্তান উৎপন্য করা সম্ভব হয় না। কৃত্রিম প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে হয়। নিজের সন্তান না হলে সবাই নিজের মত করে পালন করতে পারেন না।
  • সমজাতীয় বিবাহে তিদের সেই সব সন্তানরাও তাদের মত গে বা লেসবিয়ান হয়ে যান। পরিবেশে তাদের মনের অবস্থারো পরিবর্তন হয়ে যায়।
  • স্কুল ও কলেজে এই সব ছেলে মেয়েদের একটু ভিন্য নজরে দেখা হয়।
  • বাইবেল বা অনেক ধর্মেই এই সমজাতীয় বিবাহ কে মেনে নেওয়া হয় নি। আমাদের সেই বৈদিক যুগেও তেমন কোন বিবাহের কথা শোনা যায়না।
  • পন্ডিতেরা মনে করেন সমজাতীয় বিবাহ সমাজের ওপর কোন ভাল প্রভাব ফেলবে না।
  • সমজাতীয় বিবাহ সমাজের সাধারণ আইন সম্মত বিবাহ ব্যাবস্থার ক্ষতি করতে পারে।
  • বিদেশের সব চার্চেই সমজাতীয় বিবাহ ব্যবহস্থা কে মেনে নেওয়া হয় না।
  • বিবাহের পরবর্ত্তী পদক্ষেপ হল স্বামী স্ত্রীর সহবাস বা ভালোবাসার মিলন। দুটো মন একাকার হয়ে যায়। সমজাতীয় বিবাহ কে কেউ কেউ বিকার যৌন গ্রস্থ মনের শিকার বলে মনে করেন।
  • আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই সমজাতীয় বিবাহ বিবাদের সৃষ্ট করতে পারে, কেননা সব দেশে এই বিবাহ এখোনো মেনে নেওয়া হয়নি।
  • সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশির ভাগ লোকই এই সমজাতীয় বিবাহের পক্ষে নন। তারা স্ত্রী ও পুরুষের বিবাহ কেই সম্মান দিয়ে থাকেন।
  • সমজাতীয় বিবাহ যৌনবৈষম্যবাদী সৃষ্ট করবে। এর ফলে মহিলারা সুধু মহিলাদের ও পুরুষশুধু পুরুষদেরই পছন্দ করবেন।
  • সমজাতীয় বিবাহের ফলে দেশের জন সংখ্যার হের ফের হতে পারে।
  • সমজাতীয় বিবাহ যেহেতু সংবিধান সম্মত নয় তাই বিদেশে (আমেরিকাতে) যারা এই বিবাহ করবে তাদের আয় কর থেকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমন কি তারা সরকারি ১৫০০ উপর সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবেন।

মুম্বাইয়ে এখন বিয়ে বাড়িতেও হিজড়াদের উপদ্রব দেখা যায়। আগে ছিল সন্তানের জন্ম হলে এদের দেখা মিলত। অধুনা মুম্বাইয়ে কারো বাড়িতে বিয়ে হলেও এদের আবির্ভাব ঘটে। মোটা দক্ষিণাও দিতে হয়। দেখলাম তারা দুনিয়ার অনেক খবরই রাখেন। এমন একজন কে বলতে শুনলাম এখন থেকে লুকিয়ে চুরিয়ে চুরিয়ে করবার দিন শেষ হতে চলেছে। এবার সবার সামনে বিয়ে করব। যদিও ভারতবর্ষে এই ধরনের বিবাহ কে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যায় না।

ভারতবর্ষ ও সমজাতীয় বিবাহ

THE HINDU MARRIAGE ACT, 1955: (“The law does not recognize lesbian marriages. The Hindu Marriage Act, Indian Marriage Act and the Special Marriage Act stipulate that a marriage can only be solemnized between a male and a female,”)

কিন্তু প্রেমের বন্যা হয়ত সুনামীর চেয়েও অনেক বেশি গতিতে চলো। তাই দেশে যারা গে বা লেসবিয়ান বা হিজড়া তারা কি এই সবের তোয়াক্কা করেন? আইন থেকে দুরে থেকেই গোপনে তারা বিয়ে করে নেন। তাই তো তারা সবার উপেক্ষা কে দুরে সরিয়ে একলা চলেই অনেক সময় তারা দোকলা হয়ে থাকেন।

Comments (1) >>

রোহন কুদ্দুস said: _

  ekkebare to the point laglo. ei jatiyo rachona tothye bharakranto hai. kintu ei lekhaTi ekkebare proyojoniyo tathya diye toiri -- slim rachona. aro poRte chaibo eman sundar lekha.
March 20, 2007
Write comment

This content has been locked. You can no longer post any comment.


busy

অসীমকুমার
About the author:
 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন