|
লিখেছেন রোহন কুদ্দুস
|
|
পাতা 1 মোট 4
সম্পাদক বললেন -- ‘লিখুন।’ সাথে জুড়ে দিলেন- ‘যা খুশি লিখুন।’ এমন সম্পাদক ক্ষণজন্মা। আমার মতো লেখকের পাল্লায় পড়লে বেশিদিন বেঁচে থাকার কথা নয়। তবে কৌশিক যদি টিকে যান এযাত্রা, তাহলে ধারাবাহিকভাবে এ কলাম আলোর মুখ দেখবে। এ মাসে আমার মেলবাক্স উজাড় ক’রে দিলাম। একটা সতর্কবার্তা-এ লেখার কিছু অংশ (বেশ কিছু অংশ) অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে নয়। আপনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হ’লে ঐ জায়গাগুলো চোখ বন্ধ ক’রে পড়বেন।
আমার মেলবাক্স এবং ফরওয়ার্ড বার্তাপ্রবাহ
প্রতিদিনই আমার মেলবক্স ভর্তি হ’য়ে যায় অবাঞ্ছিত ফরওয়ার্ড মেলে। কোনওটা ওরকুটের কমিউনিটিতে যোগ দেওয়ার, আবার কোনওটা বিরল শ্রেণীর রক্ত প্রার্থনায়। আই.আই.টি.কানপুরের কোন বাঙালি ছাত্র দূরারোগ্য কোলাবুকি (এমনই কিছু নাম ছিল) রোগে ভুগছে এবং তার জন্যে আমাদের কিছু করা আশু কর্তব্য--এই মেল তো গত দেড় বছর ধরে পেয়ে চলেছি। তার সাথেই নিয়মিত আসতে থাকে কোনও হোটেলে গেলে আয়নার পেছনে রাখা লুকানো ক্যামেরা চিনে ফেলা থেকে শুরু ক’রে কোকাকোলা অপুষ্টিগুণ বা এ.টি.এম. সেন্টারে ডাকাতের হাত থেকে বাঁচার হঠযোগ।
শুধু তাই নয়। মাঝে মাঝে সাইবাবা বা মা মেরীর ‘বিরল’ ফটোগ্রাফও পেয়ে থাকি। সেইসব মেল গাণিতিক হারে সৌভাগ্য বয়ে আনে। যথা, ৫ জনকে মেলটি ফরওয়ার্ড করলে ৫ সপ্তার মধ্যে তুমি ভালো খবর পাবে। ৫-এর জায়গায় ফরওয়ার্ড-এর সংখ্যা ৫০ ক’রে দাও। ৫ মিনিটে ছাপ্পড় ফাড়কে নসিব তোমার মাথার ওপর আছড়ে পড়বে। এখানেই ক্ষান্তি নেই। সাথে থাকে সতর্কবার্তা--এই মেল কাউকে না পাঠিয়ে ডিলিট ক’রে দেওয়ার ফলে চিলির কোন এক প্রেসিডেন্ট ৩ দিনের মাথায় মারা গিয়েছিলেন। পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফও বোধহয় এমন কোনও মেলকে অবজ্ঞা করার ফলেই তার গদি খুইয়েছিলেন। তা এইসব মেলের জ্বালায় তিতিবিরক্ত কোন এক বান্দা একটা মেল পাঠিয়েছিল। তার বয়ান ছিল অনেকটা এইরকম।
|