|
লিখেছেন আইভি চ্যাটার্জী
|
|
পাতা 1 মোট 4
এই নিয়ে তিনবার দেখল ‘রঙ দে বসন্তী’। ওরা তিনজন খুব বন্ধু। মৃদুল, প্রান্তিক আর আনন্দরূপ। সেই নার্সারি ক্লাস থেকে একসঙ্গে পড়েছে, কদিন পরেই স্কুলের শেষ পরীক্ষা। তারপরই প্রান্তিক চলে যাবে সিঙ্গাপুর, মৃদুল যাচ্ছে দিল্লী, আনন্দরূপের একদমই মন ভাল নেই। ‘আমিও বাইরে পড়তে যাই না কেন, ও মা? ও বাবা?’
 অলংকরণ - সৌরভ চক্রবর্তী
মা বলেন, ‘আর তো দুটো বছর রে। তারপর টুয়েলভ পাশ করে তুইও তো বাইরেই চলে যাবি। আর কটা দিন এখানেই থাক না সোনা। তোকে ছেড়ে থাকতে আমার কত কষ্ট হবে, জানিস ?’
তা আনন্দরূপও জানে। মাকে ছেড়ে থাকতে ইচ্ছে করে নাকি ওরই! প্রান্তিক-মৃদুল যাচ্ছে বলেই এত কথা। বাবা অবশ্য আনন্দরূপেরই দলে। বাবা নাকি সেই ছোট বয়সেই ওকে রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
‘ওখানে স্বাবলম্বী করে তৈরী করে’, ‘শুরু থেকে কেরিয়ার প্ল্যান করাই ভালো’।
মা রাজি ছিলেন না। মায়ের একটা অন্যরকম ভাবনা আছে...‘একজন শিশু কি শুধু স্কুলেই শেখে? জীবনের কেরিয়ার তৈরীই কি একটা জীবনের উদ্দেশ্য? আমার ছেলে নিজের বাড়িতে বাবামায়ের সঙ্গে বড় হতে গিয়ে জীবনের এমন অনেক শিক্ষা আপনিই গ্রহণ করবে, যা তাকে হাত ধরে শেখাতে হবে না। পরিবারের প্রতি টান, স্নেহ-মায়া-মমতার স্বাদ -- এ গুলো কি কম কথা ?’ বড় হতে হতে আনন্দরূপ এই তর্ক-বিতর্ক কতবার যে শুনেছে। কিন্তু সে তো ছোটবেলার কথা।
এখন তো আর আনন্দরূপ ছোট নেই! ওরও খুব বাইরে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছে। ‘মামা’স বয়’ হয়ে থাকার বয়স নাকি! শেষ পর্যন্ত মাকে রাজি করানো গেছে। এই পরীক্ষার পর আনন্দরূপও বাইরে যাচ্ছে। এখন মনপ্রাণ দিয়ে পড়ে পরীক্ষাটায় ভালো রেজাল্ট করার অপেক্ষা। প্রি-আইসিএসই শেষ হয়েছে সবে। মৃদুলদের বাড়ির নতুন বিদেশী ডিভিডি প্লেয়ারটায় দেখল সিনেমাটা। তারপর সুমনাদির বাড়িতে। সুমনাদির কাছে জুলিয়াস সিজার পড়তে যায় তিনজন ;
‘আজ আর পড়া নয়, একটা ভালো সিনেমা দেখাব তোমাদের’---সেই ‘রঙ দে বসন্তী’ আবার।
তারপর আজ। টিভিতে দেখালো সিনেমাটা। আজ তিনজন আলাদা আলাদা দেখলো সিনেমাটা।
|