Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
নেতাজীর হোমফ্রন্ট-- ১ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন সত্যব্রত মজুমদার   
আর্টিকেল সূচি
নেতাজীর হোমফ্রন্ট-- ১
পাতা 2
পাতা 3

সুভাষ চন্দ্রের বিস্ময়কর অন্তর্ধানের সংবাদ ঘোষিত হয়েছে। তিনি নিরাপদে গন্তব্যস্থানে পৌঁছলে দেশবাসীর অবগতির জন্য অন্তর্ধানের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এই চাঞ্চল্যকর সংবাদে বিশ্ববাসী সচকিত, দেশবাসী পুলকিত ও বিস্মিত হল। তিনি নিরাপদে কাবুলে পৌঁছে যে পথ দিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন সে পথেই তাঁর নিরাপদে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার খবর পাঠালেন। তাঁর পৌঁছনর সংবাদের প্রতীক হিসাবে পেন্সিলে লেখা একখানি পত্র পাঠান। পত্রে সম্ভাষণ ছিল “ To my Country Men” আর পত্রে ঠিকানা ছিল “ Some where from Europe” । এ পত্রে দেশবাসীর জন্য তাঁর ভারত ত্যাগের প্রত্যক্ষ কারণের দেশের আশু স্বাধীনতার বিবৃতি ছিল। এ কারণে এ চিঠিখানির বহুল প্রচারের প্রয়োজন হয়।

বি-ভি তৎকালীন বৃটিশ গোয়েন্দা দপ্তরের সীমাহীন তৎপরতা উপেক্ষা করে এ পত্রখানির বহুল প্রচার ও ভারতের দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। বি-ভির নেতৃস্থানীয় যতীশ গুহ, বিনয় সেন, কামাখ্যা রায় প্রমুখের তত্ত্বাবধানে ঐ পত্রখানি ছাপানো ও তৎসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবস্থাদি সম্পন্ন করা হয়। এক সঙ্গে, একই দিনে, একই সময়ে ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত হতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত সমস্ত প্রধান স্থানে দেয়াল লিপি হিসাবে দেয়ালে সেঁটে দেওয়া হল এ পত্রের প্রতিলিপি। কলকাতায় অবস্থিত সমস্ত কন্সাল-জেনারেলের দপ্তর অথবা এমবেসিতে এ পত্রের প্রতিলিপি খামে পুরে পৌঁছে দেওয়া হল। পৌঁছে দেওয়া হলো সুদৃশ্য বিয়ের চিঠির খামে পুরে ব্যক্তিগত নাম ঠিকানা লিখে বিশিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছে, কলকাতা হাইকোর্ট ও অন্যান্য কোর্টের আইনজীবীদের কাছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষায়তনগুলির বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতীদের কাছে ও অন্যান্য প্রখ্যাত ব্যক্তিদের কাছে। এ কাজে নির্মল ধর, সত্যেন মিত্র, কমল বিশ্বাস, জীবেশ্বর গগই, কামাখ্যা গাঙ্গুলী, সতীন্দ্রনাথ নিয়োগী (সাধন) প্রভৃতির দুঃসাহসিক কর্মপ্রয়াস ও কর্মদক্ষতা অতুলনীয়।

সুভাষচন্দ্র জার্মানীতে যে কর্ম-প্রচেষ্টা শুরু করেন তারই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার মানসে ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অভ্যন্তরে স্থাপিত হয় জার্মান ইঞ্জিনিয়ারের তত্ত্বাবধানে শক্তিশালী বেতার যোগাযোগ কেন্দ্র। ঠিক হয় ঐ কেন্দ্রের দায়িত্ব দেশীয় ইঞ্জিনিয়াররা নিয়ে নিলেই জার্মানরা ফিরে যাবে তাদের দেশে। স্থির হলো চঞ্চল (সত্যব্রত) মজুমদার এ কেন্দ্রের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। কোন কারণে যদি চঞ্চল মজুমদার না থাকেন তবে তাঁর অবর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার ফণী চৌধুরীর উপর এ ভার বর্তাবে। চঞ্চলবাবুকে সে ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ করতে হলো। চঞ্চলবাবু কেন্দ্রটি অধিগ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হলেন, কিন্তু অধিগ্রহণ করার পূর্বেই কেন্দ্রটির উপর নেমে আসে চূড়ান্ত বিপর্যয়। ফলে সাময়িকভাবে এ ব্যাপারের কাজকর্মই বন্ধ হয়ে যায়।

জার্মানী রাশিয়া আক্রমণ করল। ‘কীর্তি’-কিষানের রুশ ঘেষা মনোবৃত্তি বি-ভি সংগঠনকে বিরাট আঘাত হানল- সৃষ্টি করল বিরাট বিপর্যয়। ইংরেজের কাছে বি-ভির কর্মকান্ড স্বচ্ছ হয়। সত্যরঞ্জন বক্সী, যতীশ গুহ, বিনয় সেন প্রভৃতি নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যারা তখনও জেলের বাইরে ছিলেন তাঁরাও চলে গেলেন জেলের অভ্যন্তরে। কিছুদিন বাদে শান্তি গাঙ্গুলী মশায়ও ধরা পড়লেন। একটা অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হলো-যে অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল সুভাষচন্দ্রের অন্তর্ধান পর্বের সূত্রপাতে।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন