Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
পারস্পরিক প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
পারস্পরিক
পাতা 2
পাতা 3

(১)
‘তিন সন্তানকে মেরে আত্মঘাতী মা’ – সকাল সকাল কেন যে এই খবরটাই চোখে পড়ে গেল। এ বাড়ির বাবাকে কাগজ পড়ে শোনায় টুসু। বাবা এইভাবে ওর পরীক্ষা নেন, তাও জানে ও।

এ বাড়ির কাজটা টুসূর ভারি পছন্দ। বাবা আর মা দুজনেই নিপাট ভালোমানুষ। টুসুকে নিজের মেয়ের মত স্নেহ করেন। নয় নয় করেও এই এগারো বছর টুসুর এবাড়ির কাজ হয়ে গেল।। মায়ের হাত ধরে সেই ছোট্ট বেলায় এ বাড়িতে এসে মিলিদিদির সঙ্গে খেলা করত টুসু। একটু বড় হতেই মা নিজে অক্ষর পরিচয় করিয়েছিলেন। মিলিদিদির জামা পরেই টুসু বড় হয়ে গেল দেখতে দেখতে। মিলিদিদির বিয়েতে কম খেটেছে টুসু! দাদাবাবুর বাড়ি থেকে বিয়ের সময় হলুদ সিল্কের শাড়ি এসেছিলো স্রেফ টুসুর জন্য। সেই শাড়ি পরে বিয়ে বসেছিলো টুসুও কমাস পরেই। এ বাড়ির মাও একখানা লাল সিল্কের শাড়ি দিয়েছিলেন। লোহা কারখানায় রীতিমত মাইনে পাওয়া মজদুর ছিলো টুসুর বর।
--‘যাক, আমাদের দুই মেয়েই ভাল ঘরে বরে পড়ল।‘ একসঙ্গে বলেছিলেন দুই মা।
মিলিদিদির মা আর টুসুর মা।

তা টুসুর যেমন কপাল। মোক্ষম সময়ে মানুষটার স্বভাব চরিত্তির প্রকাশ হয়ে পড়ল। সুবল হারু দুই ছেলের একজন সবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলতে শুরু করেছে, আর একজন তখনও হামা টানে। আর পেটে এসেছে আর একজন। দুটো বাড়ির কাজ ছেড়ে দিয়েছে টুসু, এক তো শরীর খারাপ তার ওপর দুই দামাল ছেলের বায়না। পতুর মা এসে প্রথম খবরটা দিয়েছিল।

ঐ ওদিকের বস্তীতে নাকি আর এক সংসার টুসুর বরের। কিছুতেই বিশ্বাস হয় নি, তারপর একদিন গিয়ে নিজের চোখে দেখে এসেছে টুসু। একটা ছেলে বছর সাতেকের, আর একটা মেয়ে বছর চারেকের – বউটাকে দেখে টুসুর আর কিছু বলার ইচ্ছে হয় নি।। বরকে অবশ্য ছাড়ে নি টুসু, ‘কেন এত্ত বড় কথা লুকায়ে বিয়া বসছিলি, বল?’ তাতে বরের হাতের পাঁচ আঙ্গুলের দাগ এসে পড়েছিল গালে। ‘মেয়েমানুষের বড় মুখ ভাল লয়। তুর কিছু অসুবিধা হইছে? খেতে পরতে পাছিস নাই?’

বুঝিয়েছিল আশেপাশের পাঁচ ঘরের বউরাও।‘জোয়ান মানুষ, অমন হয়। উ বউটা তো শরীলে অসুখ, উয়ার কাছে কি সুখ পাবে অমন জোয়ান মানুষ? তাই তোকে বিহায় আনছে। তুই তো রাজরাণীরে। ও সব বাদ দিয়া মন দিয়া সংসার কর।‘

তা, ছোট থেকেই টুসু যে অন্যরকম শিখেছে। ওদের বস্তীতে এমন তো কতই হয়। কেউ মাথা ঘামায় না। কিন্তু মিলিদিদিরা যে অন্যরকম বলত। “টুসু, আত্মসম্মান সবচেয়ে বড় কথা। কক্ষোণো মাথা নীচু হয় এমন কাজ করবি না।‘ মিলিদিদির দাদু যতদিন বেঁচেছিলেন, টুসু আর মিলিদিদিকে নিয়ে কত গল্প করতেন। ‘মেয়েরা হল মায়ের জাত।‘ বুড়ো দাদু বলতেন । ‘মায়ের অস্মমান হ্য় যে ঘরে, সেখানে দেবতা থাকেন না।‘



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন