Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
উত্তরণ - পর্ব ১ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অনুপম   
আর্টিকেল সূচি
উত্তরণ - পর্ব ১
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4

স্নেহের মনু,

বহুদিন তোমার কোনো খবর পাই না। আশাকরি ভাল আছ। হয়ত এই চিঠিই আমার শেষ চিঠি। আমি চলে যাচ্ছি এখান থেকে। এই চিঠি যখন তুমি পাবে তখন হয়ত আমি বহুদূরে চলে গেছি। আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানে একপিঠের টিকিট পাওয়া যায় । সে খান থেকে ফেরা জায় বলে আমি শুনিনি। আমি এখন আর লিখতে পারিনা। তাই আমি বলছি আর স্নিগ্ধা লিখছে। পাগলী মেয়ে, কথা শোনেনা, সব সময় আমার কাছে পরে থাকে। আমি চলে গেলে ওর কি হবে জানিনা। তবে মানুষ ঠিকই একটা কিছু ব্যাবস্থা করে নেয়।

স্নিগ্ধা
অলংকরণ - সৌরভ চক্রবর্তী

এই চিঠি তোমাকে লিখছি, কিছু কথা তোমাকে জানাব বলে। তোমার বাবা মৃত্যুর সময় এই বাড়ীটা তোমাকে দিয়ে গেছেন। তুমি কাজে ব্যাস্ত ছিলে বলে আসতে পারনি। তোমার বাবার মৃত্যুর সময় সব কাজ স্নিগ্ধাই করেছে। ও ছেলের কাজ করেছে। যা তোমার করার কথা ছিল, তাই ও করেছে। মনু মানুষের মৃত্যু একবারই হয়। ব্যাঙ্কের সব টাকা পয়সাও তোমার বাবা তোমাকে দিয়ে গেছেন। উনি স্নিগ্ধাকে কোনোদিনই পছন্দ করতেননা। কিন্তু পাগলী মেয়েটা সব সময় তোমার বাবার সব কাজ করে দিত।

Quotation ব্যাঙ্কের সব টাকা পয়সাও তোমার বাবা তোমাকে দিয়ে গেছেন। উনি স্নিগ্ধাকে কোনোদিনই পছন্দ করতেননা। কিন্তু পাগলী মেয়েটা সব সময় তোমার বাবার সব কাজ করে দিত। Quotation
ওনার যখন যা দরকার সব এগিয়ে দিত। তবু তোমার বাবা ওকে সহ্য করতে পারতেননা। উনি সব সময় তোমার কথাই বলতেন। মৃত্যুশয্যায় উনি বারবার তোমার কথাই বলেছেন। সেই তুমিই কিন্তু আসতে পারলেনা। ভাগ্যের কি নিদারুণ পরিহাস জানো? তোমার বাবার মুখাগ্নিও স্নিগ্ধাকেই করতে হয়েছে। তোমার বাবাকে শ্রাদ্ধের পিন্ডও স্নিগ্ধার হাত থেকে নিতে হয়।

মনু তোমার কাছে আমার একটা ছোট্ট অনুরোধ আছে। আমি চলে যাবার পর যতদিননা স্নিগ্ধা অন্য কোনো ব্যবস্থা করতে পারছে, ওকে এই বাড়ীতেই থাকতে দিও। স্নিগ্ধা এই বাড়িরই বউ। ও বড় ভালো মেয়ে।

ভালো থেকো। আমার আশীর্বাদ নিও।

ইতি

মা

সাবওয়েতে অফিস থেকে ফিরে, একতলায় মেলবক্স থেকে চিঠিপত্র নিয়ে এলিভেটরে চারতলায় উঠে চাবি ঘুরিয়ে এপার্টমেন্টের দরজা খুলে অনিরুদ্ধ পিক্ পিক্ আওয়াজ শুনতে পেল।

কেউ ফোনে মেসেজ রেখেছে।

খাওয়ার টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে একটা একটা করে চিঠিগুলো দেখতে লাগল। কেব্ লের বিল, টেলিফোনের বিল, কিছু জাঙ্ক মেল, কলকাতা থেকে মার চিঠি। চিঠিগুলো খাওয়ার টেবিলে রেখে অনিরুদ্ধ জুতো খুলল। কোট ও টাইটা খুলে ক্লজেটে রেখে দিল। জামার উপরের দুটো বোতাম খুলে দিল। রান্নাঘরে গিয়ে কফিমেকারে কফি বসিয়ে লিভিংরুমের আলোটা জ্বালিয়ে চিঠিগুলো নিয়ে সোফায় গিয়ে বসল। একটু ঝুঁকে টেলিফোনের মেসেজ বোতামটা টিপে দিল।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন