Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ১১ প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ১১
পাতা 2
পাতা 3
    ...বৃটিশ সরকারও রাঙাকাকাবাবুকে সেই সময় চীন যাবার জন্য পাসপোর্ট দিতে অস্বীকার করেছিল।” প্রসঙ্গত- এ থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে কোন দেশের বিদেশনীতিই আদর্শভিত্তক নয, সম্পূর্ণভাবেই জাতীয় স্বার্থভিত্তিক।

    সুভাষচন্দ্র কলকাতার পাঞ্জাবী নেতা নিরঞ্জন সিং তালিবের মাধ্যমে ‘কীর্তি কিষাণ’ দলের সহায়তায় ভারত-সীমান্ত অতিক্রম করে রুশ দেশে যেতে চেয়েছিলেন এবং সে প্রচেষ্টা পরিত্যক্ত হওয়ার কারণ পুণরুক্তি হলেও সর্দার শার্দুল সিং কবিশরের নিবন্ধ থেকে বিবৃত হলো। সর্দারজী তাঁর পত্রিকার নিবন্ধের ১৪২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “সুভাষ বোস প্রথমে ১৯৪০ সালের শুরুতে রাশিয়া যাওয়ার ব্যবস্তা করেছিলেন। পাঞ্জাবের কম্যুনিষ্ট বন্ধুর সহায়তায় এ ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু বন্ধুটি কলকাতায় তাঁর এক পাঞ্জাবী কোটিপতি  বন্ধুর কাছে কথাটা ব্যক্ত করে। এই কমুনিষ্ট বন্ধুটি ছিলেন পলাতক এবং এই কোটিপতির আর্থিক সহায়তাই তিনি কলকাতায় গোপনে অবস্থান করতেন। এই কোটিপতি বন্ধুটি সরকারের ইঞ্জিনীয়ারিং বিভাগের এক অফিসার বন্ধুর কাছে কথাটা প্রকাশ করে ফেলেন-অবশ্য কোন মতলব নিয়ে নয়। খবরটা ক্রমে অবাঞ্ছিত জায়গায় চলে যেতে পারে এ আশঙ্কায় সাময়িকভাবে পরিকল্পনাটি পরিত্যক্ত হয়। বছর খানেক বাদে এ প্রস্তাবটি আবার গ্রহণ করা হয়।”

    গান্ধীজী ও তাঁর অনুগত কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ সংগ্রামমুখী করতে সুভাষচন্দ্র শেষ পর্যন্ত অসমর্থ হলেন। কংগ্রেসের তথাকথিত প্রগতিবাদী তথা সমাজবাদী নেতৃবৃন্দের এক বৃহৎ অংশ ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রুখবার জন্য বিনা শর্তে ইংরেজকে যুদ্ধে সাহায্য করতে উন্মুখ। গান্ধীজী ও তাঁর অনুগামী কংগ্রেসকে জনগণের সংগ্রাম মানসিকতার সামিল করার মানসে সুভাষচন্দ্র ইসু-ভিত্তিক সংগামের ডাক দেন। তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৪০ এ হলওয়ের মনুমেন্ট অপসারণের জন্য সত্যাগ্রহ আন্দোলনের ডাক দিলে ২রা জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করে প্রেসিডেন্সি জেলে স্থানান্তরিত করে।

    সুভাষচন্দ্র বিভির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মিলিত হলে আগত আন্দোলনের ধারা ও ভবিষ্যত পদক্ষেপ সম্বন্ধে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। স্থির হয় যে সুভাষচন্দ্র বর্হিভারত থেকে মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনা করবেন। তাঁরা এও স্থির করেন যে সুভাষচন্দ্র আমরণ অনশন শুরু করে তাঁর নিজ মুক্তি আদায় করবেন এবং ভারত থেকে পালিয়ে যাবেন।

    বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স (বি-ভি) এর সদস্য ও কলিকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অশোক সেন ‘রাখাল বেনু’ সাময়িক পত্রিকার ১৩৯০র সত্যরঞ্জন বক্সী স্মরণ সংখ্যার ৩১ পৃষ্ঠায় এ সম্বন্ধে লিখেছেনঃ “সুযোগ আসে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়। হেমচন্দ্র ও সত্যরঞ্জন সহ বি-ভির প্রায় সমস্ত নামী নেতাই তখন কারাগারে। ভাগ্যক্রমে সুভাষচন্দ্রও তখন কারাগারে। মহাযুদ্ধের সুযোগ কিভাবে গ্রহণ করা যায় তাহা লইয়াই দিনের পর দিন সুভাষচন্দ্রের বিশেষ পরামর্শ চলে হেমচন্দ্র এবং বিশেষ করে সত্যরঞ্জন বক্সীর সঙ্গে। তারপর আমরণ অনশন, অনশনের হুমকিতে ও অসুখের কারণে প্রায় একই সময় সুভাষচন্দ্র ও সত্যরঞ্জন দুজনেরই সাময়িকভাবে কারামুক্তি ঘটে।”

    এই সাময়িকীর এই সংখ্যাতেই বি-ভির অন্যতম সদস্য অমলেন্দু ঘোষ এ বিষয়ে একই কথা লিখেছেন তাঁর ‘দেশবন্ধু, সুভাষচন্দ্র ও সত্যরঞ্জন’ নিবন্ধে। সত্যরঞ্জন বক্সী মহাশয় শেষবার যখন ‘কীর্তি’ ও সি.পি.আই এর বিশ্বাসঘাতকতার বলি হয়ে গ্রেপ্তার বরণ করেন তার কয়েকদিনের মধ্যেই অমলেন্দু বাবুও ঐ বিশ্বাসঘাতকতায় গ্রেপ্তার বরণ করেন। তিনি লিখেছেনঃ “দেশবরেণ্য নেতৃবৃন্দ যিনি যাই বলুন না কেন, শেষপর্যন্ত সুভাষচন্দ্রের ভবিষ্যত বাণীই কিন্তু ঠিক হলো। সত্যি ছয়মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় বিশ্বমহাযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। আর অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই অকস্মাৎ ১৯৪০ সালের ১২ই এপ্রিল মধ্যরাত্রে হেমচন্দ্র ঘোষ ও সত্যরঞ্জন বক্সী সহ বি-ভির ২৫জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর কয়েক মাস পরে হলওয়েল মনুমেন্ট আন্দোলনের ব্যাপারে ১৯৪০ সালের ২রা জুলাই সুভাষচন্দ্র নিজেই গ্রেপ্তার হয়ে গেলেন। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো প্রেসিডেন্সি জেলে। সহবন্দী হিসাবে সেখানে তিনি পেলেন হেমচন্দ্র ঘোষ, সত্যরঞ্জন বক্সী ও মনীন্দ্র কিশোর রায়কে। এ ভাবে এই মহাযুদ্ধের পটভূমিকায় কি করণীয় সে সম্বন্ধে তাঁদের মধ্যে একান্ত গভীর আলোচনার সুযোগ এসে গেল। তাঁরা তাঁদের কর্তব্য ঠিক করে ফেললেন। যে ভাবেই হোক, অন্তত সুভাষচন্দ্র ও সত্যরঞ্জনকে জেল থেকে বেরুতেই হবে। বাড়িতে অন্তরীণ থাকুন কি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রহরী পরিবৃত অবস্থায় থাকুন তাতে ক্ষতি নেই।

    তারপর সত্যি একদিন অসাধ্য সাধন হলো। ক্রমে ক্রমে সুভাষচন্দ্র ও সত্যরঞ্জন দুজনেই স্ব স্ব গৃহে অন্তরীন হলেন।”

(এর পর আগামী সংখ্যায়)


নেতাজীর হোমফ্রন্ট বাংলা ১৪০৪ সালের আশ্বিন মাসে পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়। লেখকের অনুমতিক্রমে মুখোমুখি.কম, ইন্টারনেট পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে এই পুস্তকটি পুনঃপ্রকাশ করা হচ্ছে।

Comments (0) >>
Write comment

This content has been locked. You can no longer post any comment.


busy

সত্যব্রত মজুমদার
About the author:


 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন