Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ১১ প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ১১
পাতা 2
পাতা 3
    সুভাষচন্দ্র যুদ্ধোদ্ভুত পরিস্থিতিকে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছবার জন্য তিনি তাঁর সহকর্মীদের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করতেন। এ সম্বন্ধে সর্দার শার্দুল সিং কবিশর তাঁর নিবন্ধে লিখেছেনঃ “১৯৩৯ সালে ইউরোপে যুদ্ধ বাঁধে। সুভাষচন্দ্র ইউরোপে তাঁর গুপ্ত প্রতিনিধি(Emissaries) পাঠান। তথাপি তিনি তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত প্রতিনিধি দিল্লীর লালা শঙ্কর লালকে তৎকালীন নিরপেক্ষ জাপানে প্রেরণ করেন; জাপান সে সময় মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নাই। তাঁর বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল জাপানে অবস্থিত অক্ষশক্তির দূতাবাসগুলির মাধ্যমে সুভাষ বসুর কর্মধারা অক্ষশক্তিকে বুঝিয়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা তথা সহায়তা লাভ করা। এখানে এক বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছেঃ তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তরে গোলাম মহম্মদের নামে শঙ্কর লালের পাসপোর্ট বের করা হয়েছিল। এই গোলাম মহম্মদই পরবর্তীকালে পাকিস্থানের গবর্ণর-জেনারেল হন।”

    কোন রকম চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে সুভাষচন্দ্র বৃটিশ সরকারের সঙ্গে একটা শেষ সমঝোতা করে নিতে চাইলেন। সুভাষচন্দ্রের এ সময়ের কর্মধারা সম্বন্ধে সর্দারজী তাঁর নিবন্ধে লিখেছেনঃ “সুভাষচন্দ্র কোন অপরিবর্তনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে, সম্ভব হলে বৃটিশ সরকারের সঙ্গে একবার শেষ বোঝাপড়া করতে চেয়েছিলেন। বৃটিশ যদি ভারতকে স্বাধীনতা দিয়ে কানাডা ও অষ্ট্রেলিয়ার ধাঁচে ভারতীয়দের হাতে ভারতের শাসন ব্যবস্থাসহ ক্ষমতা হস্তান্তর করে তাহলেই তিনি বৃটিশকে লোক এবং অস্ত্র দিয়ে পূর্ণ সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত এটা স্মরণীয় যে সে সময় গান্ধীজী নৈরাশ্যবাদীর মত অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লোক ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিত্রশক্তিকে কংগ্রেসের সহায়তার অঙ্গীকারে অনিচ্ছুক ছিলেন; যদিও এর অল্পদিন পরেই নেহেরু ও আজাদের নেতৃত্বে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি গান্ধীজী ও তাঁর গোঁড়া অনুগামী রাজেন্দ্রবাবু, যমুনালাল বাজাজ এবং সর্দার প্যাটেলের মতবাদকে অগ্রাহ্য করে। সুভাষচন্দ্র কারারুদ্ধ হলে সর্দার শার্দুল সিং কবীশর ফরোয়ার্ড ব্লকের সভাপতি হন। তিনি পাঞ্জাবের প্রধানমন্ত্রী সিকান্দার হায়াত খাঁন, বাংলার প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হক, পাঞ্জাবের গবর্ণর, রাজন্য সভার নয়ানগরের জামসাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সুভাষচন্দ্রের প্রস্তাব যথাযথ অধিকরীদের নিকট পৌঁছে দিতে বলেন। তাঁরা বড়লাট লিনলিথগো এবং তাঁর উপদেষ্টাদের প্রস্তাবটা জানান, কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া গেল না। সুভাষবাবু যতটা চাইছিলেন বৃটিশ সরকার ততটা এগোতে প্রস্তুত ছিল না। বৃটিশ সরকার এও মনে করত যে কংগ্রেসের কাছ থেকে কোন প্রস্তাব থাকলে সে প্রস্তাব সুভাষচন্দ্রের প্রস্তাবের থেকে অনেক সহজ ও নিজ স্বার্থের পক্ষে বেশী সহায়ক হবে; আর কংগ্রেসের তুলনায় ফরোয়ার্ড ব্লকের কার্যকরী ক্ষমতা সম্বন্ধেও বৃটিশ সরকার যথেষ্ট সন্দিগ্ধ ছিল। বড়লাটের ইনটেলিজেন্স ডায়রেক্টর স্যার জেনকিনস কবীশরের সঙ্গে সাক্ষাতে শেষ পর্যন্ত সচেষ্ট হন; সুভাষচন্দ্র কিন্তু ইতিমধ্যে অক্ষশক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে ইউরোপে যাওয়ার জন্য মনস্থির করে ফেলেছেন এবং লালা শঙ্করলাল জাপানে গিয়ে অক্ষশক্তির দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করে ফেলেছিলেন। কবীশরকে এ ব্যাপারে (স্যার জেনকিনস এর সঙ্গে আলোচনায়) আর অগ্রসর হতে নিষেধ করা হলো। কবীশর স্যার জেনকিনস এর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। ফরোয়ার্ড ব্লক কর্মীদের প্রোগ্রামের পরের কর্মসূচী ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।”

    সুভাষচন্দ্র-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্হিভারত থেকে মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনা করার কথা যেমন ভাবছিলেন তেমনি এবং এই উভয় শক্তির আওতার বাইরে থেকে মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনা করার প্রচেষ্টার কথাও অনেক পূর্ব থেকেই ভাবছিলেন এবং সে প্রচেষ্টা যে করেছিলেন তার প্রমাণও পাওয়া যায়। শিশির বসু তার ‘বসুবাড়ী’ পুস্তকের ৯২ পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ “১৯৩৯ সালের একটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার কথা আমি অনেক পরে, ১৯৬৬ সালে জানতে পারি। শুনতে পেলাম এক চীনা ভদ্রলোক, যিনি ১৯৩৯ সালে কলকাতায় চীন সরকারের কূটনৈতিক প্রতিনিধি ছিলেন, কলকাতায় এসেছেন। নাম হুয়ান চাও চিন। নামটা যেন দলিলচিত্রে কোথাও দেখেছি বলে মনে হল। টেলিফোনে যোগাযোগ করে চৌরঙ্গির হোটেল থেকে তাঁকে নেতাজী ভবনে ধরে নিয়ে এলাম। নেতাজী ভবনে এসে তিনি খুব খুশি; বললেন, এই ঘরেই তো ১৯৩৯ সালে সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে আমার কথাবার্তা হয়েছিল। রাঙাকাকাবাবু তাঁকে গোপনে ডেকে জানতে চেয়েছিলেন, চীন সরকার তাঁকে আশ্রয় দিতে রাজি হবে কিনা। দেশে থেকে তিনি স্বাধীনতার সংগ্রাম চালাতে পারবেন না, কারণ ইংরেজ সরকার যে কোন অজুহাতে যতদিন যুদ্ধ চলবে ততদিন তাঁকে বন্দী করে রাখবে। চীনা ভদ্রলোকটি খোঁজ-খবর করে রাঙাকাকাবাবুকে জানান যে, সৌজন্যমূলক যাত্রায় কোন বাধা নেই, তিনি চীনে স্বাগত, কিন্তু রাজনৈতিক কার্যকলাপের সুযোগ চীন সরকার তাঁকে দিতে পারবেন না, কারণ ইংরেজ সরকারের সঙ্গে তাঁদের বন্ধুত্বের চুক্তি রয়েছে।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন