Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ১১ প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ১১
পাতা 2
পাতা 3

এর আগে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ : সূচনায়
নেতাজীর হোমফ্রন্ট
[ সর্ব ভারতীয় ফরোয়ার্ড ব্লক- বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স (বি-ভি)]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত সুস্পষ্ট। সুভাষচন্দ্র গান্ধীজী ও তাঁর অনুগামী কংগ্রেসকে নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের এই সংকট মুহূর্তে ইংরেজের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের অবতারণায় ব্যর্থ। গান্ধীজী ও তাঁর অনুগামীরা অদূরদর্শিতার শিকার; তাঁরা সুভাষচন্দ্রের সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিলব্ধ জ্ঞানের উপলব্ধি করতে হয় অসমর্থ নয়ত বা ইংরেজের মরণ কামড়ের ভয়ে ভীত-শঙ্কিত।

    সুভাষচন্দ্র গান্ধীজী ও তাঁর অনুগামী নেতৃবৃন্দকে সংগ্রামমুখি করার শেষ প্রচেষ্টায় হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ আন্দোলনের সূচনা করেন। এই আন্দোলন শুরু হওয়ার আগের দিন ১৯৪০ সনের ২রা জুলাই সুভাষচন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দী করা হয়। সুচতুর ইংরেজ আন্দোলনের হাওয়া বেশীদূর এগুতে দিল না। তারা হলওয়েল মনুমেন্টটিই অপসারণ করে অবস্থার সামাল দিলেও সুভাষচন্দ্রকে মুক্তি দিল না। এই আন্দোলন, ইংরেজ মানসে তার প্রতিফলন ও প্রতিক্রিয়া, গান্ধীজী ও তাঁর অনুগামীদের মানসিকতায় কোন রেখাপাত করতে পারল না।

    মহাযুদ্ধের সূত্রপাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বিশেষ তৎপরতার সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের হোমফ্রন্ট বেঙ্গল-ভালান্টিয়ার্সের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৪০ সালের ১২ই এপ্রিল পুলিশ দলের পঁচিশ জন নেতা ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে সদ্যপ্রবর্তিত ভারতরক্ষা আইনে বিনা বিচারে বন্দী করে। এ পর্যায়ে এঁরাই ভারতের প্রথম নিরাপত্তা বন্দী। এঁদের মধ্যে হেমচন্দ্র ঘোষ ও সত্যরঞ্জন বক্সীও ছিলেন ; ছিলেন মেজর সত্যগুপ্ত, মনীন্দ্র কিশোর রায়, রসময় শূর, ভূপেন্দ্র কিশোর রক্ষিত রায়, ভবেশ নন্দী, সুপতি রায়, নিরঞ্জীব রায়, জ্যোতিষ জোয়ারদার, নিকুঞ্জ সেন, মনোরঞ্জন সেন, বীরেন ঘোষ, কালিপদ ব্যানার্জী, মধু ভট্টাচার্য, চিত্ত বিশ্বাস, পরিমল রায়, হরিপদ ভৌমিক, প্রফুল্ল ত্রিপাঠি, ভূপতি মন্ডল, ক্ষিতি সেন, ফণী দাস, অমল নন্দী, বিমল নন্দী প্রমুখ। বি-ভির প্রতিষ্ঠাতা নেতা হেমচন্দ্র ঘোষ ও নেতা সত্যরঞ্জন বক্সী ও মনীন্দ্র কিশোর রায়কে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখা হয়েছিল। জুলাই মাসে সুভাষচন্দ্রকে গ্রেপ্তার করলে তাঁরও স্থান হয় প্রেসিডেন্সি জেলেই সেকথা পূর্বেই বলা হয়েছে। এর ফলশ্রুতি সুভাষচন্দ্র-হেমচন্দ্র-সত্যরঞ্জন-মনীন্দ্র কিশোরের সঙ্গে বিশেষভাবে আলাপ-আলোচনা করার সুযোগ পেলেন। এ আলোচনায় সুভাষচন্দ্রের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সুনির্দিষ্টরূপে নির্ধারিত হলো। সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গেই নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌছাবার জন্য তাঁর পদক্ষেপ শুরু।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে সুভাষচন্দ্র এর বহু পূর্বেই আগত মুক্তিসংগ্রামকে যথোচিতভাবে রূপ দিতে যথাসময়ে বর্হিভারতে পাড়ি দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। এ সম্বন্ধে ফরোয়ার্ড ব্লকের তৎকালীন সভাপতি সর্দার শার্দুল সিং কবীশর ১৯৬২ সালে ‘হিন্দুস্থান ষ্ট্যান্ডার্ড’ পত্রিকার পূজা স্পেশাল সংখ্যায় “Netaji and India’s Fight for Freedom”নামক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। মূল ইংরাজী নিবন্ধটি ক্রোড়পত্র ‘ঘ’ তে দেওয়া হলো। ঐ প্রবন্ধে পত্রিকার ৩৪০ পৃষ্ঠায় এ সম্বন্ধে তিনি ‘লিখেছেনঃ ‘সুভাষচন্দ্রের সরাসরি খবর ছিল হিটলার ও মুসোলিনি ইউরোপ মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং তাঁদের সমর্থকরা জার্মানি-ইতালির উপর যে যন্ত্রনাদায়ক চুক্তিপত্র চাপিয়ে দিয়েছিল, ফলে, তাঁরা এত বিক্ষুব্ধ ছিলেন যে তাঁরা ইউরোপ ও আফ্রিকার মানচিত্রের আমূল পরিবর্তন করে দিতে চেয়েছিলেন। ইতালীর মুসোলিনি ও জার্মানীর হিটলার সুভাষচন্দ্রকে ভারতের জাতীয়তাবাদীদের এ তথ্য জানাতে বলেছিলেন এবং ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের তৎকালীন এ সুযোগের যথার্থ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সুভাষ চন্দ্রও যথাযথ মুহূর্তে জাতীয় অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরাধীনতার জোয়াল ছুঁড়ে ফেলতে চেয়েছিলেন। গান্ধীজী যদিও সুভাষের মতই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য উদগ্রীব ছিলেন তবুও তিনি তাঁর অহিংসবাদের সঙ্গে একীভূত থাকায় সুভাষচন্দ্রের পথের সঙ্গে একমত হতে পারলেন না।”

    সুভাষচন্দ্র যেমন যুদ্ধোদ্ভুত বিশেষ পরিস্থিতিতে গান্ধীজীর নেতৃত্বে মুক্তিসংগ্রামের অবতারণায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তেমনি বিকল্প প্রচেষ্টা থেকেও তিনি বিরত ছিলেন না। কংগ্রেসের মধ্যেই ‘ফরোয়ার্ড ব্লক’ গঠন করলেন কংগ্রেসকে সংগ্রামমুখী করার অভিপ্রায়ে।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন