Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
উত্তরণ - পর্ব ১৩ প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
উত্তরণ - পর্ব ১৩
পাতা 2
পাতা 3
আজ সারাটা দিন এটা ওটা গোছাতে গোছাতেই কেটে গেছে।
একবার সমু হাসতে হাসতে স্নিগ্ধাকে বলল- বৌদি, এত গুছিয়ে কি হবে? আর কিছুক্ষুণ পরেই তো তুমি চলে যাবে, এসব আর গোছাতে হবেনা।
না সমু, গুছিয়ে না গেলে মাসির খুব কষ্ট হবে। ওনাকে তো একা একাই সব করতে হবে। একটু গুছিয়ে দিয়ে গেলে ওনার সুবিধা হবে।

মাসি খাটের ওপরে বসে স্নিগ্ধার সুটকেসটা গোছাচ্ছিলেন। কথাটা শুনতে পেয়ে বললেন- স্নিগ্ধা ওসব রাখতো এখন। ও আমি পরে আস্তে আস্তে সব গুছিয়ে ফেলব। এখন আয় আমার কাছে এসে বস। কতদিন তোকে আর দেখতে পাবনা। তুই আমার মেয়ে। আজ তুই চলে যাচ্ছিস। আয় কাছে এসে বস তোকে একটু ভালো করে দেখি।

স্নিগ্ধার মনটা কেমন যেন হুহু করে উঠল। চোখগুটো ছলছল করতে লাগল। আস্তে আস্তে মাসির পাশে গিয়ে খাটের কোনায় বসল।

কোনো কথা না বলে চুপ করে বসে রইল স্নিগ্ধা। চোখদুটো সুটকেসের দিকে নামানো। কিন্তু কোনো কিছুই চোখে আসছেনা। শুন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চারিপাশটা যেন অসম্ভভ নিস্তব্ধ। কোনো শব্দ নেই। একটা শব্দহীন ঘরে স্নিগ্ধা যেন একা বসে আছে। এই মুহুর্তে পৃথিবীতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব নেই। মনটা সম্পূর্ণ চিন্তাহীন। মন একদম ফাঁকা। শুধু নিজের নিঃশ্বাসের শব্দটা কানে আসছে। কোনো চিন্তাই মনকে ছুঁয়ে যাচ্ছেনা।

‘আচ্ছা মানুষ কি চিন্তাশুন্য থাকতে পারে? মানুষ যখন জেগে থাকে তখন কোনো না কোনো চিন্তা মানুষকে ছুঁয়ে থাকে। তাহলে আমার মনে কেন কোনো চিন্তা আসছেনা?’ এই চিন্তাটাই স্নিগ্ধাকে বারবার ধাক্কা দিতে থাকল।

কি ভাবছিসরে?
মাসির কথায় স্নিগ্ধার মানুষের চিন্তা নিয়ে চিন্তাটা ছিঁড়ে গেল।
কিছুই ভাবছিনা মাসি।
তাই আবার হয় নাকি? মানুষ কিছু না ভেবে আবার থাকতে পারে নাকি?
সত্যিই কিছু ভাবছিনা।
একটু সময় চুপ করে থেকে স্নিগ্ধা আবার বলল-মাসি, আমি কি তোমাকে একটু হেল্প করব?
তোকে কিচ্ছু করতে হবেনা। তুই শুধু আমার কাছে বসে থাক।
মাসি, আমি তোমাকে ছাড়া থাকব কি করে?
যে ভাবে আমি থাকব। দেখ, সময় মানুষকে আস্তে আস্তে সব সহ্য করিয়ে দেয়। তুই ও দেখবি নতুন জায়গায় আস্তে আস্তে মানিয়ে নিয়েছিস। আমরা আস্তে আস্তে তোর কাছে ফিকে হয়ে যাব।
মাসির কথায় স্নিগ্ধা আর থাকতে পারলনা। মাসিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। মাসিও একহাত দিয়ে স্নিগ্ধাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।
দুজনে কতক্ষণ এরকম ভাবে ছিল নিজেরাই জানেনা। হঠাৎ সমুর কথায় দুজনেই চমকে উঠল।

কি হল তোমরা আবার কাঁদতে আরম্ভ করলে কেন? আরে বাবা কাঁদার সময় অনেক পাবে জীবনে, এখন তাড়াতাড়ি করে সব গুছিয়ে নাও। বৌদি, তুমি উঠে চানটা করে নাও। তোমরা আর দেরী কোরোনা, তা হলে সবদিকে দেরী হয়ে যাবে।

কথাটা বলে সমু আবার ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

মাসি একবার স্নিগ্ধার চিবুকটা ধরে ওর মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলেন। ভালো করে স্নিগ্ধার মুখটা দেখে নিয়ে ওর চোখের জল নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দিয়ে বললেন- যা মা, এবারে চানটা করেনে। তানাহলে সত্যিই দেরী হয়ে যাবে বেরতে।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন