Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
চশমা প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
চশমা
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4

তোতার খুব হাসি পাচ্ছে এখন। কিন্তু জোর করে হাসি চেপে রাখতে হচ্ছে বলে পেটের মধ্যে গুবগুব করছে বেশ । বাবি এর মধ্যেই একবার বলেছে, ‘কি রে তোতা, হাত গুটিয়ে বসে আছিস কেন? তাড়াতাড়ি খেয়ে নিতে পারিস না?’

বাবি কিছু বললেই মামণিকেও কিছু একটা বলে বকতেই হবে তোতাকে, তোতা চিরকাল দেখে এসেছে । দাদাইয়ের খাবার সাজাচ্ছিল মামণি এতক্ষণ, প্লেটটা নিয়ে দাদাইয়ের ঘরের দিকে চলেও গিয়েছিল বেশ, বাবির কথা শুনেই ফিরেছে, ‘সত্যি তোতা, তোকে নিয়ে আর পারি না। এত বড় হলি, এখনও খাইয়ে দিতে হবে রোজ রোজ? দাঁড়া আসছি আমি। একটা কাজ যদি নিজে নিজে করিস।’

বকবক করতে করতে দাদাইয়ের ঘরের দিকে গেল এতক্ষণে। তোতাকে বলতেই দিল না, খাইয়ে দিতে হবে না, তোতা নিজেই খেয়ে নেবে। খুব হাসি পাচ্ছে বলেই খেতে দেরি হচ্ছে, এ কথা কি করে বলে তোতা! সত্যি, বড়দের কান্ড দ্যাখো! কিছু বলতেই দেবে না, সব নিজেরাই বলবে, কিচ্ছুটি বলার জো নেই, কিছু বলতে গেলেই বড় বড় চোখ করে বকবে, ‘খুব মুখে মুখে কথা শিখেছো তোতা।’
শুধু দাদাই অন্যরকম।
দাদাইকেও তোতার মতই বকুনি খেতে হয় বাবির কাছে, মামণির কাছে। দাদাই তো বাবির বাবা। বাবির চেয়েও অনেক বড়। তবু দাদাই তোতার মতই মামণিকে ভয় পায় কেন কে জানে। টুকাইকে জিজ্ঞেস করেছিল তোতা,’বড় হওয়া মানে কি রে?’ দাদাইয়ের বড় হওয়া না-হওয়া নিয়ে বেশ একটা আলোচনা করার ইচ্ছে ছিল, টুকাইটা পাত্তাই দিল না।
‘তোর যত উল্টোপাল্টা কথা তোতা। আমার তো দাদুনের বাড়ি গেলেই মজা হয়। যদি মাম আমাকে বকে একবার, দাদুন-ঠাম্মি মাকে যা বকুনি দেয়! তোর দাদাইকে বলবি তোর বাবা-মাকে একবার বকে দিতে । তাহলেই বুঝবি কে বড়।’
বিট্টু মাকে লুকিয়ে একটা দেশলাই বাক্স এনেছিল সেদিন,সবাই মিলে দেশলাই কাঠি জ্বালাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তোতার কথাটা ভালো করে শুনলই না কেউ। ‘আমার মামণি বলেছে, আগুন নিয়ে খেলা করতে নেই’ বলে মুখ গোঁজ করে
বাড়ি চলে এসেছিল তোতা।

বন্ধুগুলো যেন কি!
এমন একটা সিরিয়াস কথা নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছেই হল না!
‘কি বললি তোতা? আ-লো-চ-না ! আলোচনা মানে কি রে?’ রূপুদিরা চারবন্ধু মিলে সে কি হাসি। কেন যে ছাই তোতা মনের দুঃখটা রূপুদিকে বলতে গেল! এমনিতে রূপুদি তোতাকে একদমই পাত্তা দেয় না, মিষ্টিমার বাড়ি গেলেও তোতাকে মামণিদের গল্পের কাছেই বসে থাকতে হয়।
‘রূপুদি অনেক বড় তোতা, অনেক পড়া ওর, একদম ডিস্টার্ব করবে না রূপুদিকে’, মিষ্টিমার বাড়ি যাবার আগে মামণি এই কথাটা একবার বলবেই। আজ নাকি মাল্টিপ্লেক্সে বড়দের সিনেমা দেখতে গেল মিষ্টিমার সঙ্গে, তাই তোতাকে রূপুদির কাছে থাকতে হল। ‘হ্যাঁ হ্যাঁ ছোটপিসি, তুমি যাও না, তোতা ঠিক থাকবে আমার কাছে’, খুব হেসে হেসে বলেছিল রূপুদি তখন। এদিকে তারপরই ফোন করে ‘মা নেই, আসবি? আড্ডা দেব’ বলে বন্ধুদের ডেকে নিল। কেন, তোতার সঙ্গে একটা দিন আড্ডা দেওয়া যেত না!

রূপুদির বন্ধুরা অবশ্য তোতাকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে, এ কথাটা বলতে হবে। তোতা যে মোটেই বাচ্চা নয় এটা ওদের বলে দিতে হয় নি। বাচ্চাদের মত কার্টুন চ্যানেল না দেখে তোতা যে টিভিতে ক্রিকেট ম্যাচ দেখছে সেটা থেকেই ওরা বুঝতে পেরেছে বোধ হয়। সুযোগ বুঝে একবার বলেছিল তোতা, ‘আমার একটা আলোচনা করার আছে।’ দিয়াদি বুঝতেই পারে নি কথাটা, অভিদা ঠিক বুঝেছে। যতই হোক, ছেলে তো, মেয়েগুলোর মত সব কথা তিনবার করে বোঝাতে হয় না। তারপরই ঐ ... ‘কি বললি তোতা? আ-লো-চ-না। আলোচনা মানে কি রে?’ এত হাসির কি হল কে জানে। মেঘাদি সুর করে বলতে লাগল, ‘আলু আর চানা, সেই নিয়ে আলুচানা। তুই বুঝি সেই কথা বলছিস তোতা?’

তোতা যে খুব রেগে গেছে সেটা একমাত্র রূপুদিই বুঝতে পেরেছে। তোতা রেগে গেলে বাড়ি লন্ডভন্ড করে দেয় রূপুদি তো জানে। ভয়ে ভয়ে তাড়াতাড়ি ফ্রিজ খুলে কোকের বোতল এনে দিল বলে তোতাও আর রাগ করে নি অবশ্য।
কিন্তু কথাটা জানা হল না আর।
কাকে যে জিজ্ঞেস করে তোতা!
মামণিকে তো জিজ্ঞেস করাই যাবে না, দাদাইয়ের কথা হলেই যা রেগে যায় মামণি! সেদিনও তো বাবির সঙ্গে রাগ-রাগ করে আলোচনা করছিল, ‘কেন, সুমন বাবাকে একমাসের জন্যেও নিজের কাছে রাখতে পারে না?’
বাবিও বলল, ‘কি করব বলো! সব দায় আমার, সবই তো বোঝো। তাছাড়া সুমনরা দুজন চাকরি করে, সারাদিন বাবার দেখাশোনা কে করবে?’
মামণি যে কি রেগে গেল তখন, ‘ছোটবৌ চাকরি করে বলে বুঝি সব দায় আমার? তাহলে টাকাপয়সা ভাগের সময় সব আমার হয় না কেন?’ বাবি বলেছিল, ‘আস্তে আস্তে, তোতা জেগে যাবে যে।’
আহা, তোতা যেন কতই ঘুমোচ্ছিল। বাবি-মামণি যে ঝগড়া করছিল, তা-ও জানে তোতা। মামণি বলেছে, ‘এগুলো ঝগড়া নয় তোতা, আলোচনা। বড়দের মধ্যে এমন আলোচনা হয়।’
‘হট টক্‌স’, বিট্টুও বলেছিল একদিন, ‘আমার মাম্মি বলেছে, বড়রা যখন হট টক্‌স করে তখন ছোটদের সেটা শুনতে নেই।’ শুনতে নেই বললেই হল! কানের কাছে অমন হট টক্‌স, আলোচনা করলে তোতা ঘুমোয় কি করে!

দাদাইও তো জেগে যায়। এমন আলোচনার পরেই দেখেছে তোতা, দাদাই কেমন দুঃখ দুঃখ মুখে থাকে। কতদিন তো খাবার খায় না, পিঙ্কিদের সাদা বেড়ালটা পাত থেকে তুলে দাদাইয়ের মাছ খেয়ে যায়, দাদাই চেয়েও দেখে না।

সুমতিমাসি খাবারগুলো ফেলে দেয় চুপি চুপি । একদিন মামণি দেখতে পেয়ে খুব বকেছিল দাদাইকে, ‘পয়সা রোজগার করতে কষ্ট হয় না?’ আজকাল দাদাই আগেই বলে দেয়, ‘পেটটা ভালো নেই বৌমা, আজ আমার খাবার কোরো না।’
সে নিয়েও মামণি রাগ করে।
দাদাই তখন সামনের পার্কে গিয়ে বসে থাকে একলা একলা।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন