Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
উত্তরণ - পর্ব ১২ প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
উত্তরণ - পর্ব ১২
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4
-হ্যাঁ জানাব। তাছাড়া আমরা তো আছিই, স্নিগ্ধার কিছু দরকার হলে আমরা তার ব্যবস্থা করব।
-হ্যাঁ দাদা কিছু চিন্তা কোরো না, আমরা তো আছিই। সমু অনিরুদ্ধর দিকে তাকিয়ে কথাটা বলল।
-অনু, তুই তাহলে ওখানে গিয়েই স্নিগ্ধার জন্য কাগজ পত্র পাঠাস? মাসি অনিরুদ্ধর দিকে একটু ঝুঁকে কথাটা বললেন।
-মাসি, গিয়েই আমি পাঠাব না। সামনের বছর এপ্রিল মাসে স্পন্সরের কাগজ পাঠাব।
-কেন?
-এখন পাঠালে কনস্যুলেট হয়ত ভিসা দেবেনা।
-কেন?
-ওরা হয়ত বলবে তুমি এত শীতে আমেরিকা গিয়ে কি করবে? তার চেয়ে সামারে ভিসার জন্য গেলে কোনো অসুবিধা হবেনা, কারণ তখন প্রচুর টুরিস্ট ওদেশে ঘুরতে যায়।
-বেশ তুই যা ভাল বুঝিস তাই করিস। কিন্তু তখন ভিসা পেতে কোনো অসুবিধা হবে নাতো?
-না। আমি গতকাল আমেরিকাতে মিসেস খান্না বলে আমার এক পরিচিত মহিলাকে ফোন করেছিলাম। তিনি এসব ব্যাপারটা খুব ভালো জানেন। উনিই বললেন সামারে ভিসার এ্যাপ্লাই করতে। ওই সময় নাকি টুরিস্টদের জন্য অনেক ভিসা দেয় কনস্যুলেট।
-বেশ তাহলে তাই করিস। তবে তোকে কিন্তু একটা কথা দিতে হবে?
- কি কথা মাসি?
-দেখ দিদি আমার হাত ধরে অনেকবার বলেছিল, ‘আমি যখন থাকবনা তখন তুই ওকে দেখিস। দেখবি স্নিগ্ধার যেন কোনো কষ্ট না হয়।’ অনু, তুই আমায় কথা দে এই মেয়েটাকে তুই দেখবি। ওকে কোনো কষ্ট পেতে দিবিনা। -মাসি, এসব কথা বাদ দাও। স্নিগ্ধা একটু অস্বস্তির সাথে কথাটা বলল মাসিকে।

মাসি স্নিগ্ধার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি বললেন-বাদ দেব কিরে? এ তো শুধু দিদির ইচ্ছা না, এ আমারো মনের কথা। তুই কি জানিসনা, তুই আমার সব?
-জানি মাসি। তবু এখন এসব কথা বাদ দাও। আজ দাদার যাবার দিন, এখন অন্য কথা বল।
    অনিরুদ্ধ হাসি হাসি মুখে মাসির দিকে তাকিয়ে বলল- মাসি কোনো চিন্তা কোরোনা। স্নিগ্ধা সুখেই থাকবে।
-যাক নিশ্চিন্ত হলাম। মাসি একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।
    সারাটা দিন বেশ হইচই এর মধ্যে কেটে গেল।
    এখন অনিরুদ্ধর যাবার সময়।

গাড়ি এসে গেছে। ডিনার খাওয়া শেষ। সবাই এয়ারপোর্টে যাবার জন্য তৈরি। সুটকেস গাড়িতে উঠে গেছে। সমু নিচে গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে। মাসি আর স্নিগ্ধা সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে অনিরুদ্ধর অপেক্ষায়।

    আর অনিরুদ্ধ?

অনিরুদ্ধ মা’র ঘরে মা’র কম বয়সি ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ।
    মা যেন কিছু একটা বলতে চাইছে। কিন্তু অনিরুদ্ধ কিছুই শুনতে পাচ্ছেনা। মা’র কি ঠোঁটদুটো একটু নড়ে উঠল? মা’র চোখদুটো কি ছলছল করছে? অনিরুদ্ধর বুকের মধ্যে কেমন যেন করছে। একটা কান্না যেন বুক ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
-মা আমি তোমায় শেষ দেখা দেখতে পেলামনা। তুমি কতবার আমাকে আসতে বলেছিলে কিন্তু আমি আসিনি। কেন আসিনি জানিনা। তোমার আমাকে না দেখতে পাওয়ার কষ্টটা আমি বুঝতে পারিনি মা। মা তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও। মা আমি তোমায় কথা দিচ্ছি, স্নিগ্ধাকে আমি সারা জীবন দেখব। ওর দুঃখ কষ্ট সব আমি ভুলিয়ে রাখব। ওকে সুখী করব। ওর জীবন নতুন ভাবে শুরু করাব।
    অনিরুদ্ধার চোখদুটো ভিজে উঠল।
    মা কি হাসছেন? মা’র মুখে যেন একটা হালকা হাসির আভাস?
-অনু চল, দেরী হয়ে যাবে।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন