Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
উত্তরণ - পর্ব ১২ প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
উত্তরণ - পর্ব ১২
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4
‌অনিরুদ্ধ তাড়াতাড়ি হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপটা নিল।
‌-দাদা আপনি কি অনেকক্ষণ উঠেছেন?
-খুব সকালে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল আর ঘুম এলনা, তাই বারান্দায় এসে বসেছি।
‌    স্নিগ্ধা একটু লজ্জা পেল। লাজুক গলায় বলল- আমাকে ডাকলেননা কেন, আমি চা করে দিতাম?
-তখন চা খাওয়ার কোনো ইচ্ছা করছিলনা। তাছাড়া অত ভোরে উঠে তুমি কি করবে?
-আমি খুব দেরীতে ঘুম থেকে উঠি। আমার খুব বাজে লাগছে, আপনি কত সকালে উঠেছেন, কিন্তু এখনো চা খাননি।
-স্নিগ্ধা, চায়ের ব্যাপার নিয়ে মন খারাপ কোরোনা। সত্যিই আমার চায়ের কথা মনে আসেনি। আজকে আমি চলে যাব, তাই আজকের সকালটা আমি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছি। এই চেয়ারটায় বস, তোমার সঙ্গে চলে যাবার আগে একটু গল্প করে নিই।
‌-দাদা, এক মিনিট সময় দিন, আমি একটু আসছি রান্নাঘর থেকে।
    স্নিগ্ধা চলে গেল।
    অনিরুদ্ধ বেশ আয়েশ করে চায়ে একটা চুমুক দিল।

স্নিগ্ধাকে দেখে একটু আগের কষ্টটা চলে গিয়ে মনটা বেশ হালকা লাগছে। স্নিগ্ধা যখন কাছে থাকে তখন মনটা বেশ ভালো লাগে। সকালের এই ভালো লাগাটা সারাটা দিনকে ভরিয়ে রাখে।

চায়ের কাপে আর একটা চুমুক দিল অনিরুদ্ধ। অলস ভাবে এলিয়ে রইল চেয়ারটায়। মনটা আবার একটু অস্থির অস্থির করছে। আজ যাবার দিন। রাত্রে ফ্লাইট্ দমদম এয়ারপোর্ট থেকে। সমু আর মাসি একটু পরেই এ বাড়িতে চলে আসবে। আজ সারাদিন ওরা এ বাড়িতে থাকবে। আজ আর কোথাও যাবার নেই। আজ শুধু অলস ভাবে দিন কাটানো আর গল্প করা। আবার কবে এদেশে আসবে অনিরুদ্ধ, তার কোনো ঠিক নেই।

‌    স্নিগ্ধা এসে একটা চেয়ারে বসল।
‌‌

ঠিক সেই মুহুর্তেই নিচে থেকে খবরের কাগজটা এসে বারান্দায় পরল। স্নিগ্ধা কাগজটা কুড়িয়ে অনিরুদ্ধকে দিল। অনিরুদ্ধ কাগজটা চেয়ারের পাশে মেঝেতে রাখল। স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে অনিরুদ্ধ বলল- এখন কাগজ পড়ব না। এখন তোমার সাথে গল্প করব।

‌    ‌স্নিগ্ধা কিছু না বলে অনিরুদ্ধর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
-আজ চলে যাচ্ছি, মনটা বেশ খারাপ লাগছে।
-আমারো মন খারাপ লাগছে দাদা। আবার কবে আসবেন?
-এখানে আসবার আগে তুমি ওখানে যাবে।

স্নিগ্ধা লাজুক চোখে অনিরুদ্ধকে একবার দেখে নিল। তারপর শাড়ির আঁচলটা ধরে ডানহাতের আঙ্গুলে জড়াতে লাগল চোখ নিচু করে। বুকের মধ্যে ধড়ফড় করছে। বুকটা জোরে জোরে ওঠা নামা করছে। কেমন একটা ভালো লাগা অস্বস্তি হচ্ছে।

-আমি ওখানে গিয়ে সব ব্যবস্থা করে তোমাকে স্পন্সরের কাগজ পাঠাব। তবে এখুনি পাঠাব না, কারণ এখন শীত পড়ে যাচ্ছে ওরা ভিসা দেবেনা। আমি সামনের বছর এপ্রিল মাসে কাগজ পত্র পাঠাব। সামারে ভিসা পেতে সুবিধা হবে। তারপর একবার ওখানে চলে আসতে পারলে একটা কিছু ব্যবস্থা করে ফেলা যাবে। সামনের বছর স্পন্সরের কাগজ পাঠালে কোনো অসুবিধা হবেনা তো?
-না না অসুবিধা হবে কেন?
-কোনো চিন্তা কোরোনা, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি মাসিকে বলে দিয়েছি যত দিন না তোমার যাবার ব্যবস্থা হচ্ছে ততদিন মাসি রাত্রে তোমার কাছে এসে শোবেন।
-না না তার কোনো দরকার নেই। আমি ঠিকই থাকতে পারব, কোনো অসুবিধা হবেনা।
-আমি জানি তোমার কোনো অসুবিধা হবেনা, তবু আমি চাই মাসি তোমার কাছে রাত্রে থাকুন।
    স্নিগ্ধা আর কিছু না বলে চুপ করে থাকল।

অনিরুদ্ধ খালি চায়ের কাপটা মেঝেতে রাখল। ডানপাটা বাঁপায়ের ওপরে তুলে বেশ আয়েশ করে বসল। স্নিগ্ধার দিকে একটু সময় তাকিয়ে দেখল। মনটা কেমন যেন করে উঠল। এই মেয়েটা এখন একা একা এই বাড়িতে থাকবে, এটা ভেবেই কেমন যেন লাগছে। এতদিন মা ছিল। মা মারা যাবার পর হইচই এর ভিতর দিয়ে এই কটা দিন কেটে গেল। আজ অনিরুদ্ধও চলে যাচ্ছে। রাত থেকে স্নিগ্ধা একদম একা। এত বড় বাড়িতে কি করে থাকবে স্নিগ্ধা একা একা?

-স্নিগ্ধা তোমার যখনি কোনো কিছু দরকার হবে আমাকে ফোন করে জানাবে, কথা দাও।
-জানাবো দাদা।
-আমি চেষ্টা করব তোমাকে প্রতি সপ্তাহে ফোন করতে।
-হ্যাঁ দাদা প্লিজ ফোন করবেন। আমি আপনার ফোনের অপেক্ষা করব।
    অনিরুদ্ধ স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল।
-দাদা, আমাকে একটা কথা দেবেন?
-কি বল।
-ওখানে গিয়ে আপনি নিজের দিকে দেখবেন। বেশি কষ্ট করবেননা। আপনার কোনো কিছু হলেই আমাকে জানাবেন। কথা দিন আমাকে।
-কথা দিলাম তোমাকে সব জানাব।
    অনিরুদ্ধর মনটা ভরে গেল। একটা ভালো লাগায় শরীরটা শিরশির করে উঠল।
‌    স্নিগ্ধার বুকের ভিতরটা ফুলে উঠল। একটা মিষ্টি গন্ধ নাকে এসে লাগছে। সেই ভালো লাগার গন্ধটা ভেসে আসছে।
    দরজায় কেউ বেল দিচ্ছে। কেউ বোধ হয় এসেছে। স্নিগ্ধা চেয়ার থেকে উঠে নিচে নেমে গেল। অনিরুদ্ধ চুপ করে বসে থাকল বারান্দায়। কে আবার এল এত সকালে?
    মাসি আর সমু স্নিগ্ধার সাথে উঠে এল দোতলার বারান্দায়।
    অনিরুদ্ধ ওদের দিকে তাকিয়ে বলল- তোমরা এসেছ? এস এস, বস।
    চেয়ার টেনে বসতে বসতে মাসি বললেন- কি করছিসরে অনু?
-কিছুই না মাসি। আমি আর স্নিগ্ধা বসে বসে গল্প করছি।
-দাদা তোমার এয়ারপোর্টে যাবার সব ব্যবস্থা রেডি। গাড়ি সময় মত এসে যাবে। সমু অনিরুদ্ধকে কথাটা বলল।
‌    ‌অনুরুদ্ধ সমুর দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখে বলল- থ্যাঙ্ক ইউ।
    স্নিগ্ধা একটু সময় ওখানে দাঁড়িয়ে পেছন ফেরে ভিতরে যাবার জন্য যেই পা বাড়িয়েছে, অমনি মাসি ওকে বললেন
-স্নিগ্ধা তুই আবার কোথায় চললি?
    স্নিগ্ধা আবার ওদের দিকে ফিরে বলল- মাসি আমি একটু তোমাদের জন্য চা করে আনি।
-না এখন চা করতে যেতে হবেনা। আমরা চা খেয়ে এসেছি। তুই এখানে এসে বস। আজ অনু চলে যাবে, আয় আমরা সবাই মিলে একটু গল্প করি।
-চা করতে বেশি সময় লাগবেনা।
-আমি জানি চা করতে বেশি সময় লাগবেনা। আমরা চা খেয়ে এসেছি, পরে ইচ্ছা হলে আবার খাব। আয়তো এখানে আমার পাশে বস এই চেয়ারটায়।
    স্নিগ্ধা কিছু না বলে হাসি হাসি মুখে মাসির পাশে একটা বেতের চেয়ার টেনে নিয়ে বসল।

চারজনে চারটে চেয়ারে বারান্দায় বসে। এক ফালি রোদ বারান্দার এক কোণে এসে পড়েছে। একটু সময় সবাই চুপচাপ বসে এ ওর মুখের দিকে দেখছে। কারো যেন কিছুই বলার নেই। সব কথা যেন শেষ হয়ে গেছে।
‌    ‌অনিরুদ্ধই নীরবতা ভেঙ্গে মাসির দিকে তাকিয়ে বলল- মাসি, তাহলে তুমি রাত্রে স্নিগ্ধার কাছেই থেকো?
-হ্যাঁরে থাকব। তোর কোনো চিন্তা নেই।
-কিছু দরকার হলেই আমাকে কিন্তু তোমরা জানাবে।


 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন