Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
উত্তরণ - পর্ব ১২ প্রিন্ট কর ইমেল
আর্টিকেল সূচি
উত্তরণ - পর্ব ১২
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4

এর আগে

আজ অনিরুদ্ধর ফিরে যাবার দিন।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে অনিরুদ্ধ বারান্দায় এসে বসল। রাস্তায় এখনো লোকজন বেশি নেই। সূর্য্য সবে পূবের আকাশে উঁকি দিয়েছে। কিছু শালিক বাগানে কি যেন খুটে খুটে খাচ্ছে আর কিচির মিচির করছে। বাড়ির সামনে রাস্তার ইলেকট্রিকের তারে একটা কাক বসে তারস্বরে কা কা করছে।
    স্নিগ্ধা এখনো ওঠেনি।

অনিরুদ্ধ চুপচাপ বসে আছে শুন্য দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে। হঠাৎ চোখটা পড়ল রাস্তার উল্টোদিকের কৃষ্ণচূড়া গাছটায়। ছোটবেলায় ও একটা কবিতা লিখেছিল ওই কৃষ্ণচূড়া গাছটাকে নিয়ে। আজ আর কবিতার লাইনগুলো মনে নেই। শুধু মনে আছে ওই গাছটা ওর খুব ভালো লাগত। প্রায়ই ও গাছটার দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকত। খুব যখন ছোট তখন কৃষ্ণচূড়ার ফুলের কুঁড়ি রাস্তার থেকে কুড়িয়ে তার খোসাটা ছাড়িয়ে ভেতর থেকে মাথাওলা শুঁড়গুলো নিয়ে বন্ধুদের সাথে কাটাকুটি খেলত। যার শুঁড়ের মাথা খসে যেত সেই কাটাকুটি খেলায় হেরে যেত।

অনিরুদ্ধ নিজের মনেই হেসে উঠল। ছোটবেলায় কত কিছু হাবিজাবি খেলাই ওরা খেলত।
আজকালকার বাচ্চারা কি কৃষ্ণচূড়ার কুঁড়ি নিয়ে ওই খেলাটা খেলে? ওরা কি জানে এরকম একটা খেলা আছে?
    অনিরুদ্ধর খুব জানতে ইচ্ছে করছে এখনকার বাচ্চারা ওই খেলাটা খেলে কিনা।
    আচ্ছা স্নিগ্ধা কি জানে এরকম একটা খেলা আছে?
    অনিরুদ্ধ মনে মনে বলল, যাবার আগে স্নিগ্ধাকে কথাটা জিজ্ঞাসা করতে হবে।
    মা-ও খেলত এই খেলাটা অনিরুদ্ধর সাথে।

ছুটির দিনে দুপুরে অনিরুদ্ধ গাছটার তলা থেকে কুড়িয়ে আনত দুহাত ভর্তি কুঁড়ি। তারপর দুপুরের খাওয়ার পর ও আর মা বারান্দায় বসে শুঁড়গুলো নিয়ে কাটাকুটি খেলত। মা খুব মজা পেত খেলাটা খেলতে। মাঝে মাঝে বিকেলে অনিরুদ্ধকে ডেকে মা বলত, ‘মনু যা কৃষ্ণচূড়া গাছটার তলা থেকে কিছু কুঁড়ি কুড়িয়ে আন, আমরা দুজনে কাটাকুটি খেলব।’ খেলতে খেলতে কারো শুঁড়ের মাথা কেটে গেলে মা খুব হি হি করে হাসত।

অনিরুদ্ধর এখন ইচ্ছা করছে ওই খেলাটা খেলতে। ইচ্ছা করছে ফিরে যেতে আবার সেই ছোটবেলায়। ইচ্ছা করছে মাকে কাছে পেতে। ইচ্ছা করছে মা’র কোলের ওপরে চুপ করে বসে থাকতে।

-মা।

খুব আস্তে অনিরুদ্ধ ডাকল মা বলে। মা কথাটা মুখ থেকে বেরিয়ে আসার পর সারা গাটা কেমন যেন শিরশির করে উঠল। চোখটা আকাশের দিকে তুলে নীল গভীর আকাশটার দিকে তাকিয়ে থাকল।

    সত্যিই কি মানুষ মারা যাবার পর আকাশে চলে যায়?
    ‌স্বর্গ কি আকাশে?
    মা এখন কোথায়? মা কি ওকে দেখতে পাচ্ছে? মা কি বুঝতে পারছে যে অনিরুদ্ধর কষ্ট হচ্ছে?
    ‌মাকে না পাওয়ার কষ্ট। মাকে একটু ছোঁয়ার জন্য মনটা ছটফট করতে লাগল। লম্বা শরীরটা বেতের চেয়ারে বসে কেমন যেন শিশুর মত ছটফট করছে।

চোখদুটো হঠাৎ ঝাপসা হয়ে উঠতে অনিরুদ্ধ তাড়াতাড়ি দুহাত দিয়ে চোখ মুছে নিল। ও বুঝতেই পারেনি কখন চোখে জল এসেছে।
‌    তেরোবছর মাকে না দেখার কষ্টটা আজ ওকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
   ‌ অনিরুদ্ধ কি করে মাকে তেরোবছর না দেখে ছিল?
    ‌নিজের সেই ইচ্ছাকৃত ভুলের মাশুল আজ ও দিচ্ছে। অনিরুদ্ধ বুঝতে পারছে, এই কষ্টটা ওকে সারা জীবন কুরে কুরে খাবে। মাকে দেখতে না পাওয়ার, মাকে ছুঁতে না পাওয়ার কষ্টটা ওকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে।

-দাদা চা।
    অনিরুদ্ধ চমকে উঠে ডান পাশে তাকাল।
    ‌স্নিগ্ধা চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন