Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
উত্তরণ - পর্ব ১১ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অনুপম   
আর্টিকেল সূচি
উত্তরণ - পর্ব ১১
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4

এর আগে

ভি আই পি রোড দিয়ে গাড়িটা হু হু করে ছুটে চলেছে।
জানলার কাঁচটা নামানো। হাওয়ার ঝাপটা স্নিগ্ধার চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। কপালের ওপর চুলের কুচি এসে পরেছে। বাঁ হাত দিয়ে বারবার মুখের ওপরে এসে পরা চুলগুলো সরিয়ে দিচ্ছে আলতো ভাবে। বুকটা কেমন যেন দুর দুর করছে আশঙ্কা আর ভালো লাগায়। মাঝে মাঝে ডান পাশ ফিরে পাশে বসে থাকা অনিরুদ্ধকে আড় চোখে দেখে নিচ্ছে।

অনিরুদ্ধ কিন্তু পাশে বসতে চায়নি।
সমুর ঠিক করে দেওয়া গাড়িটা যখন এল, তখন অনিরুদ্ধ পেছনের দরজা খুলে ধরে প্রথমে স্নিগ্ধাকে বসতে বলে। স্নিগ্ধা গাড়িতে ওঠার পর অনিরুদ্ধ দরজাটা বন্ধ করে সামনে ড্রাইভারের পাশে বসতে যাচ্ছিল। স্নিগ্ধা হা হা করে উঠেছিল। স্নিগ্ধার একান্ত অনুরোধে অনিরুদ্ধ সামনে না বসে পেছনের সিটে স্নিগ্ধার পাশে এসে বসে। স্নিগ্ধার মন বলেছিল, দাদা যদি সামনে বসেন আর ও পেছনে তা হলে কেমন যেন পর পর মনে হবে। কিন্তু গাড়ি যখন চলতে আরম্ভ করল তখন স্নিগ্ধার কেমন যেন অস্বস্তি হতে লাগল। দাদা কি ভাবলেন কে জানে। দাদা হয়ত ভাবলেন, কি মেয়েরে বাবা স্নিগ্ধা? ভাশুরের পাশে বসতে ওর লজ্জা করছে না?
সেই থেকে স্নিগ্ধা একদম চুপচাপ। কোনো কথা বলছেনা। শুধু চুপ করে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।
পাশে বসার পর থেকে অনিরুদ্ধও কোনো কথা বলেনি।
আসলে অনিরুদ্ধর মন একটু যেন দ্বিধার মধ্যে পড়েছে। মনিদীপার কথাটাই ওকে নাড়া দিয়ে গেছে। আচ্ছা মনিদীপা কেন ও কথা বলল?
যাক গিয়ে।
মনিদীপা নিজের মনের কথাই বলেছে। আসলে তো আর সেটা সত্যি না।
অনিরুদ্ধ মনে মনে বেশ কয়েক বার বলল, ‘স্নিগ্ধা আমার ভাই অভিজিৎ-এর স্ত্রী’।
গাড়িটা উল্টোডাঙ্গায় বাঁ দিকে ঘুরে ই এম বাই পাস ধরল। বেশ জোরে যাচ্ছে গাড়িটা। অনিরুদ্ধর একটু যেন ভয় ভয় করছে। আমেরিকাতে প্রচন্ড জোরে গাড়ি চলে। তবে সে চলা অন্য রকম। কলকাতায় তত জোরে গাড়ি চলেনা, তবু কেন জানিনা একটু যেন ভয় ভয় করছে। হয়ত গাড়ির হর্ণের আওয়াজের জন্য বা রাস্তা সরুর জন্য। ঠিক যে কিসের জন্য সেটা অনিরুদ্ধ বুঝতে পারছে না।
অনিরুদ্ধ বাঁ পাশে বসে থাকা স্নিগ্ধার দিকে এক বার মুখ ঘুরিয়ে তাকাল।
স্নিগ্ধা জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।
স্নিগ্ধার মুখের ডান দিকটা দেখা যাচ্ছে। চুলগুলো হাওয়ায় উড়ছে। লাল লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটের কিছুটা দেখা যাচ্ছে। ঘিয়ে রঙের ওপরে হালকা সবুজ সুতোর কাজ করা তাঁতের শাড়িতে স্নিগ্ধাকে অপূর্ব লাগছে। একটা হালকা মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে স্নিগ্ধার গা থেকে। কোলের ওপর স্নিগ্ধার চুড়িহীন ডান হাতটা আলতো ভাবে পরে আছে। সরু সরু আঙ্গুলগুলে আঁচলের একটা কোণ ধরে রেখেছে।
অনিরুদ্ধর বুকটা কেঁপে উঠল।
চোখ ফেরাতে পারছেনা।
এত রূপ কি করে পেল এই মেয়েটা?
স্নিগ্ধার মাজা মাজা গায়ের রঙে কেমন যেন একটা মাদকতা আছে। এই রকম গায়ের রঙ অনিরুদ্ধ কোনো মেয়ের দেখেনি কখনো। অদ্ভুত একটা উজ্জ্বল বাদামী গায়ের রঙ স্নিগ্ধার।
এই রঙ, এই মুখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায়না।
কোনো উগ্রতা নেই, কিন্তু কেমন যেন একটা নম্র স্নিগ্ধতা আছে স্নিগ্ধার সৌন্দর্যে।
এই রূপই পুরুষকে পাগল করে দেয়।
উগ্র সৌন্দর্য তাৎক্ষণিক। কিন্তু অন্তরমূখী নম্র সৌন্দর্য চিরকালীন।
নিজের অজান্তেই অনিরুদ্ধর একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল।
তাড়াতাড়ি করে মুখ ঘুরিয়ে জানলা দিয়ে বাইরে তাকাল অনিরুদ্ধ।
নিজেকে মনে মনে ধিক্কার দিল। ছিঃ, এসব কি ভাবছে ও? ও কি আস্তে আস্তে নিচে নেমে যাচ্ছে? নিজের ভাইয়ের স্ত্রীকে কেউ এই ভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখে?
মনটাকে অন্য দিকে ঘোরাবার জন্য অনিরুদ্ধ ভাবার চেষ্টা করতে লাগল আমেরিকার কথা। ওর যাবার দিন এসে গেছে। ওখানে অফিসে কত কাজ পড়ে থাকবে। জানাশুনা লোকেরা ওকে নেমন্তন্ন করে খাওয়াবে। একদিন ওকেও কিছু লোকদের নেমন্তন্ন করতে হবে, মা মারা যাবার খবর পাবার পর যারা ওকে ফোন করেছিল। স্নিগ্ধা কিন্তু বুঝতে পারছে অনিরুদ্ধ ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ওরো খুব ইচ্ছা করছে একবার মুখ ঘুরিয়ে দাদাকে দেখে নেয়। কিন্তু মুখ না ঘুরিয়ে জোর করে বাইরের দিকে তাকিয়ে বসে থাকল।
আচ্ছা দাদা এখন কি ভাবছেন? কি দেখছেন দাদা?
বহুদিন পর স্নিগ্ধা আজ হাল্কা করে লিপস্টিক মেখেছে। মা’র শ্রাদ্ধের সময় মাসির দেওয়া শাড়িটা পরেছে। তাছাড়া ও কিছুই সাজেনি। তবু স্নিগ্ধা লক্ষ্য করেছে গাড়িতে ওঠার সময় থেকে দাদা ওর দিকে কয়েকবার তাকিয়ে দেখেছেন। স্নিগ্ধার কিন্তু মনে হয়েছিল যে দাদা কিছু একটা বলতে চাইছেন কিন্তু বলতে পারছেননা। স্নিগ্ধার কিন্তু ভালো লাগছে। ভালো লাগছে দাদা ওর দিকে দেখছেন বলে।
কেন এমন হয়?
কেন দাদাকে স্নিগ্ধার ভালো লাগছে?
একটা হালকা মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে।
একটা ভালো লাগা মনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। বুকের মধ্যে কেমন যেন করছে। কেমন যেন ধকধক করছে বুকটা। স্নিগ্ধা ডান হাতের মুঠোটা শক্ত করে আঁচলটা ধরল। সমস্ত শরীরটা কেমন যেন শক্ত হয়ে আসছে।
কিন্তু কেন এমন হচ্ছে?
কেন শরীরটা শক্ত হয়ে আসছে?
এটাই কি ভালো লাগার আর এক রূপ?
হবে হয়ত।
স্নিগ্ধা তার সমস্ত ভালো লাগা আর এক অদ্ভুত অস্বস্তি নিয়ে চুপ করে বসে থাকল বাইরের দিকে তাকিয়ে।
অনিরুদ্ধর মনটা কেমন যেন কেঁপে কেঁপে উঠছে। বহুদিন আগের একটা ভালো লাগা আবার মনের মধ্যে এসে যেন নতুন করে বাসা বাঁধছে। বহুদিন আগের কথা।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন