Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
জৈব - ২ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন আইভি চ্যাটার্জী   
আর্টিকেল সূচি
জৈব - ২
পাতা 2
পাতা 3
পাতা 4
পাতা 5
পাতা 6

অন্তিম পর্ব

এর আগে

সঞ্চারী

‘কি হয়েছে? আমায় বলবে না মণি?’
‘আমি কি করব বুঝতে পারছি না কিছু’, নন্দিনী দু’হাতে মুখ ঢাকলেন, ‘এত অসহায় লাগছে আমার! খুব অপরাধী লাগছে নিজেকে। ওহ ভগবান।’ নন্দিনীকে এত বিপর্যস্ত আগে কখনো দেখেননি বিনায়ক। ওর বাবা মারা গেলেন যেদিন, শক্তহাতে মাকে জড়িয়ে ছিল সর্বক্ষণ। মায়ের অসুখ, ভাইয়ের চাকরি, বোনের বিয়ে, বিনায়কের বোনের বিয়ে, মায়ের চলে যাওয়া...নন্দিনী শান্ত স্থির, নন্দিনী শক্ত। সেই নন্দিনী এত ভেঙে পড়েছেন! বিনায়কের কেমন ভয়-ভয় করল হঠাৎ। টুপুরের কিছু!

কদিন আগেই বলছিলেন নন্দিনী, যত ব্ল্যাঙ্ক কল আসে ফোনে, টুপুর ব্যালকনিতে দাঁড়ালে রাস্তা থেকে ইশারা করে কেউ কেউ, মায়ের সঙ্গে বাজারে গেলেও ইচ্ছে করে ধাক্কা দেয়। একদিন তো একজন ‘সেমন্তীকে ডেকে দেবেন, কাকিমা’ বলেছিল। ফোন ধরে টুপুর নাকি তাকে ‘ইডিয়ট’, ‘স্টুপিড’ বলে রাগ করেছে।

‘এ‌ই ছেলেটা খুব পেছনে পড়েছে মাম, এর পর ফোন করলে ভালো করে ঝেড়ে দিও তো’, নন্দিনীকে বলেছে টুপুর। ‘ঝেড়ে দিও আবার কেমন ভাষা’ ধমকে উঠেছিলেন নন্দিনী, চিন্তাও হয়েছিল। মেয়ে বড় হচ্ছে! মেয়েকে আগলে রাখতে হবে আরও।

ইলাও বলেছে, স্কুল থেকে ফেরার পথে মোটরবাইক নিয়ে ইচ্ছে করে গা ঘেঁষে চলে যায় ছেলেগুলো। একটা ছেলে না, ওদের একটা দল আছে। অফিস গিয়েও চিন্তায় থাকেন নন্দিনী।

‘চাকরিটা ছেড়ে দেব নাকি ভাবছি’, সেদিনও বলেছেন নন্দিনী।
টুপুরই বাধা দিয়েছে, ‘এইজন্যে চাকরি ছাড়বে তুমি? ইউ ডোন্ট ওয়ারি মাম, আমি ঠিক ট্যাকল করে নেব।
কিছুদিন লেগে থাকবে, পাত্তা না পেলেই বুঝে যাবে’, নিশ্চিন্ত গলায় বলেছে টুপুর।

মায়ের মন, নন্দিনী নিশ্চিন্ত হতে পারেননি। ইলাকে বলা আছে, কাউকে দরজা না খোলার কথা। স্কুলবাস আসার অন্তত দশ মিনিট আগে থেকে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকার কথা। টুপুরকে নিয়ে বাড়ি ফিরেই নন্দিনীকে ফোন করার কথা। ফোন এলে আগে ইলা ধরবে, সে কথা। ব্ল্যাঙ্ক কল এলে কোন রাগারাগি না করে শান্ত হয়ে ফোন নামিয়ে রাখার কথা। টুপুরের মেজাজ খুব। ‘এই সব বাজে ছেলেরা এইটাই চায় টুপুর’, নন্দিনী বুঝিয়েছেন, ‘তুমি রিয়াক্ট করবে, বিরক্ত হবে, সেই নিয়েও তো দুটো কথা হবে। জাস্ট ইগনোর করা উচিত।’
আবার কি হল? নিশ্চয় টুপুরকে নিয়েই কিছু হয়েছে। বিনায়কের বুকের মধ্যে কেমন শির শির করে হঠাৎ। চাপা কান্নায় পিঠটা কেঁপে উঠছে বারবার, বিনায়ক আস্তে হাত রাখেন পিঠে, ‘কি হয়েছে আমায় বলো।’
‘মুন্নী। মুন্নীর সর্বনাশ হয়ে গেছে।’
মুন্নী! মুন্নী আবার কে! কি সর্বনাশ হয়েছে তার?
‘আমার মেয়েকে সর্বক্ষণ আগলে রেখেছে ইলা, আমি কি করে মুখ দেখাব ওকে!’

আরও গুলিয়ে গেল সব। ইলাই বা এর মাঝে কোথা থেকে এল! ইলার কাছে নন্দিনীর মুখ দেখাবার কথাই বা উঠছে কেন? টুপুরকে ইলা দশহাতে আগলে থাকে, তা ঠিক। এই উপদ্রবগুলো শুরু হবার পর আরও সাবধানী ইলা। কি-হোল দিয়ে না দেখে দরজা খোলে না কাউকে, ‘মামণি’-কে বুক দিয়ে আগলে রাখে ইলা। কিন্তু এর সঙ্গে ইলাকে মুখ দেখানোর কথাই বা আসছে কেন! মুন্নীই বা কে! কি সর্বনাশ হয়েছে তার! কান্নার দমকে কুঁকড়ে গেছে নন্দিনীর পিঠ, পাশের ঘরে টুপুরের কানে না যায়, তাই কান্নার আওয়াজ চেপে রাখার চেষ্টা।
‘মুন্নী, ইলার মেয়ে। ছোটবেলায় টুপুরের সঙ্গে এসে কত খেলা করত, মনে নেই তোমার?’

মনে ছিল না সত্যিই, এখন মনে পড়ল। হাঁড়িকড়াই নিয়ে রান্না বান্না খেলা, টুপুর ‘মা’ হয়ে রান্না করছে, ছোট্ট অ্যালমুনিয়ামের থালায় আটার গোল্লা, ছোট্ট গ্লাসে জল, ‘তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও, আমার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে’..মুন্নী গাছের পাতা কুচি করে করে কুটনো কুটছে, ছোট্ট গ্যাসে ছোট্ট প্রেশার কুকার, খেলাঘরে একবার ‘মেয়ে’ হয়ে টুপুর-মায়ের কাছে বায়না করছে, ‘আমি আজ স্যান্ডউইচ খাব না মাম’, আবার ইলা হয়ে ‘এই নাও দিদি, চা নাও’...
কানে খেলনা-স্টেথো হাতে খেলনা-থার্মোমিটার ডাক্তার টুপুর, বিছানায় শুয়ে মুন্নী রোগী, ‘ইঞ্জেকশন দিবেন না ডাক্তারসাহেব’...ডাক্তার টুপুরের কাছে ছাড় নেই, ইঞ্জেকশন নিতেই হবে..তখন কেঁদে ফেলে নন্দিনীর কাছে নালিশ, ‘মাসি, টুপুর আমায় ব্যথা দিয়েছে।’
ইলা বলত, ‘দেখেছেন দিদি, ঐটুকু মেয়ের কেমন বুদ্ধি। ঠিক জানে মামণিকে আমি বকব না...আপনার কাছে নালিশ করছে।’



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন